Advertisement

তুরস্কে আবারও গ্রেপ্তার ডয়চে ভেলের সাংবাদিক

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
তুরস্কে আবারও গ্রেপ্তার ডয়চে ভেলের সাংবাদিক
ডয়চে ভেলের অনুসন্ধানী সাংবাদিক আলিকান উলুদাগ। ছবি: সংগৃহীত

জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের অনুসন্ধানী সাংবাদিক আলিকান উলুদাগকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে তুরস্ক কর্তৃপক্ষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের জেরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে ‘অপমান’ ও ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর’ মামলায় আগেরবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। ওই মামলায় মুক্তির মাত্র দুই মাসের মাথায় ফের তাকে হেফাজতে নেওয়া হলো।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় নিজেই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে আলিকান উলুদাগ লেখেন, আমাকে হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে তার আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছে ডয়চে ভেলে কর্তৃপক্ষও।

আঙ্কারার প্রধান সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় সূত্র জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া সাম্প্রতিক কিছু পোস্টে তুরস্কের বিচার বিভাগ ও বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছিলেন আলিকান উলুদাগ। বিচার বিভাগের সেই সমালোচনামূলক মন্তব্য কেন্দ্র করেই নতুন তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২২টি পোস্টের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে ‘অপমান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে হেয়প্রতিপন্ন এবং অপতথ্য ছড়ানোর’ অভিযোগে আঙ্কারার বাসা থেকে তাকে প্রথমবার গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। প্রায় ৯২ দিন বিচার-পূর্ববর্তী কারাবাসের পর গত ২১ মে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান এই প্রবীণ সাংবাদিক। তবে আগের সেই মামলার বিচার কাজ এখনো চলমান রয়েছে।

প্রথমবার গ্রেপ্তারের সময় নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে উলুদাগ বলেছিলেন, ‘কাউকে অপমান করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না; বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করাই আমার কাজ। বিচার বিভাগ বা রাষ্ট্রের প্রধানকে যদি সমালোচনা করার স্বাধীনতা না থাকে, তবে সাংবাদিকতার কোনো অর্থ থাকে না।’

আলিকানকে পুনরায় গ্রেপ্তারের খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডয়চে ভেলের মহাপরিচালক বারবারা মাসিং। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমাদের সহকর্মী আলিকান উলুদাগের আবারও গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাংবাদিকতা বা পেশাগত দায়িত্ব পালনকে কখনোই অপরাধ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি তুরস্ক কর্তৃপক্ষ তার মৌলিক অধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করবে এবং আইন অনুযায়ী একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে।’

তুরস্কে প্রেসিডেন্ট বা বিচার বিভাগকে নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করা কঠোর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করে আসছে, দেশটিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রুদ্ধ করতে ও ভিন্নমত দমনে বিতর্কিত আইনগুলোর অপব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।

সূত্র: ডয়চে ভেলে, হুররিয়েত ডেইলি নিউজ, বিয়ানেট, সিপিজে