জাতিসংঘের মহাসচিব পদে লড়াই শুরু, প্রার্থী কারা?

পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচন প্রক্রিয়া অনানুষ্ঠানিকভাবে শুরু করল জাতিসংঘ। শীর্ষ এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা সাতজন প্রার্থীর প্রতি সমর্থন মূল্যায়নে রুদ্ধদ্বার ‘স্ট্র পোল’ বা প্রাথমিক ভোটাভুটি শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই)। এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার আয়োজন করছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।
বর্তমান মহাসচিব পর্তুগালের অ্যান্তোনিও গুতেরেস তাঁর টানা দু'টি পাঁচ বছর মেয়াদী সফল দায়িত্ব পালন শেষে চলতি ২০২৬ সালের শেষভাগে অবসরে যাচ্ছেন। তার স্থলাভিষিক্ত হতে আর্জেন্টিনা, চিলি, কোস্টারিকা, ইকুয়েডর, গায়ানা, সেনেগাল ও উগান্ডার মনোনীত প্রার্থীরা লড়াই করছেন।
নতুন যিনি দায়িত্ব নেবেন, তাকে অর্থনৈতিক টানাটানি, ভৌগোলিক ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও ক্রমবর্ধমান আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় জর্জরিত বিশ্ব সংস্থাসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করার মতো কঠিন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।
নিরাপত্তা পরিষদের চলতি জুলাই মাসের সভাপতি রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত জেনন মুকঙ্গো এনগে নিশ্চিত করেছেন যে, আজ বৃহস্পতিবার সকালে এআই প্রথম দফার অনানুষ্ঠানিক প্রাথমিক ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিদ্বন্দ্বী কারা
বর্তমান প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থার প্রধান ও আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাশেলেট, কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান, ইকুয়েডরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা, গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রদ্রিগেস-বারকেট, সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল এবং উগান্ডার কূটনীতিক ওলারা ওতুন্নু।
‘স্ট্র পোল’ বা অনানুষ্ঠানিক ভোট কীভাবে কাজ করে?
নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই অনানুষ্ঠানিক ভোটাভুটি কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না। প্রতিটি প্রার্থীর নামের পাশে সদস্য রাষ্ট্রগুলো তিনটি অপশনের যে কোনো একটি বেছে নিতে পারে।
১. ‘উৎসাহিত’; অর্থাৎ প্রার্থীর প্রতি সমর্থন রয়েছে।
২. ‘নিরুৎসাহিত’; অর্থাৎ প্রার্থীর প্রার্থিতায় আপত্তি বা ভেটোর ইঙ্গিত।
৩. ‘কোনো মতামত নেই’; অর্থাৎ নিরপেক্ষ অবস্থান।
এই ভোটগ্রহণ শতভাগ গোপনীয় এবং ভোটগ্রহণ চলাকালীন কক্ষে কেবল নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্যদের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত থাকেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে সব সদস্যকে অভিন্ন ব্যালট দেওয়া হয়, যাতে প্রার্থীর প্রতি সমর্থনের চিত্র স্পষ্ট হলেও কোনো আপত্তিকর বা ‘নিরুৎসাহজনক’ ভোট ভি-৫ বা নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য (চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র) থেকে এসেছে কি না, তা আলাদা করে বোঝা যায় না।
তবে পরবর্তী ধাপে ভি-৫ সদস্যদের জন্য ভিন্ন রঙের ব্যালট দেওয়া হয়; যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় কোনো স্থায়ী শক্তি প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভেটো দেবে কি না।
নিরাপত্তা পরিষদে চূড়ান্তভাবে একজন মনোনীত প্রার্থীর নাম সুপারিশ করে ১৯৩ সদস্যের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পাঠাতে পরিষদের অন্তত ৯টি ভোট প্রয়োজন হয়।
তবে কোনো স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের ভেটো চলবে না। এরপর সাধারণ পরিষদে অনুমোদন দেওয়া হয়। এটি সাধারণত একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
সূত্র: রয়টার্স
.png)






