Advertisement

ম্যুরাল আঁকা গাজার সেই কিশোরীকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর ফোন

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ম্যুরাল আঁকা গাজার সেই কিশোরীকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর ফোন
ইনস্টাগ্রামে ভিডিও বার্তায় লায়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন স্প্যানের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রা সানচেজ। ছবি: সংগৃহীত

বোমার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত গাজার এক ভাঙা দেয়াল। তার ওপর আঁকা স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের ছবি। সেই ছবির পাশে দাঁড়িয়ে গাজার ছোট্ট বালিকা লায়ান আল-কাওকা যখন সানচেজকে ভালোবাসার বার্তা পাঠায়, তখন হয়তো সে ভাবেনি বার্তাটি এভাবে ইতিহাস তৈরি করবে। অবশেষে ম্যুরাল আঁকা গাজার সেই কিশোরীকে সরাসরি ফোন করে বার্তা দিলেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী। ইসরায়েলের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় চলমান বর্বরতার মাঝে এই ঘটনা স্পেন ও ফিলিস্তিনের সুসম্পর্ককে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।

গল্পের শুরুটা হয়েছিল লায়ানের একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে। নিজের আঁকা দেয়ালচিত্রটির পাশে দাঁড়িয়ে আরবি ও স্প্যানিশ—দুই ভাষাতেই কথা বলেছিল লায়ান। সেটি যে শুধুই দেয়ালের কোনো সাধারণ ছবি ছিল না, তা স্পষ্ট করেই জানিয়েছিল সে।

লায়ান বলেছিল, ‘আমরা সবাই এতে অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছি, কারণ আমরা চেয়েছিলাম আমাদের বার্তাটি যেন স্পেনের মানুষের কাছে পৌঁছায়।’ স্পেনের মানবিক অবস্থানের জন্য দেশটিকে ভালোবেসে ধন্যবাদ জানানো এবং ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে তাদের জয়ে ‘গাজার হৃদয় থেকে’ শুভেচ্ছা জানানোই ছিল লায়ানদের উদ্দেশ্য। তারা চেয়েছিল এই ভালোবাসা ও আশার বার্তা স্পেনের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যাক।

সেই বার্তার জবাব আসতে এক সপ্তাহও সময় লাগেনি। নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় সরাসরি লায়ান ও অন্যান্য শিল্পীদের ধন্যবাদ জানান পেদ্রো সানচেজ। তিনি বলেন, ‘ধন্যবাদ, লায়ান। আর এই সুন্দর ভালোবাসার নিদর্শনের জন্য শিল্পীদেরও ধন্যবাদ।’ এত কষ্টের মাঝেও ভালোবাসা পাঠানোর জন্য ফিলিস্তিনিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

গাজার শিশু ও তাদের পরিবারের উদ্দেমে সানচেজ বলেন, ‘পুরো স্প্যানিশ সমাজ আপনাদের কথা শুনছে, আপনাদের দেখছে এবং আপনাদের কথা ভাবছে।’ একদিন গাজার শিশুরা ভয় ছাড়া স্কুলে ছবি আঁকবে ও শান্তিতে বড় হবে—এমন আশা প্রকাশ করে তিনি স্পেন থেকে ভালোবাসার বার্তা পাঠান।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর এমন উত্তর লায়ানকে গভীরভাবে আপ্লুত করে তোলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সানচেজের বার্তাটি ছড়িয়ে পড়ার পর আনন্দে লায়ান আরেকটি ভিডিও রেকর্ড করে। সে আবেগাপ্লুত হয়ে জানায়, ‘এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী গাজার এক শিশুর উত্তর দিলেন। যখন আপনার মুখে আমার নাম—‘লায়ান’—শুনলাম, আমি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।’

নিজের ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে লায়ান আরও জানায়, ‘যদিও আমরা একই ভাষায় কথা বলি না, তবুও আমাদের সমবেদনাপূর্ণ হৃদয় এক ও অভিন্ন।’ ভিডিওর শেষ অংশে এই ছোট্ট ফিলিস্তিনি বালিকা গাজাকে সমর্থন জানানো বিশ্বের প্রতিটি মানুষকে ধন্যবাদ জানায় এবং তাদের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

সূত্র: প্যালেস্টাইন ক্রনিকল