চট্টগ্রামে বন্যার্তদের পাশে ফেনীর শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ফেনী
চট্টগ্রামে বন্যার্তদের পাশে ফেনীর শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন
ছবি: এশিয়া পোস্ট

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় চরম দুর্ভোগে পড়া মানুষের মানবিক সহায়তায় পাশে দাঁড়িয়েছে ফেনীর শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। গত চার দিন ধরে ফেনীর এসব সংগঠনের প্রতিনিধিরা দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। আগামী কয়েক দিনে আরও বেশ কিছু সংগঠন ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে দুর্গত এলাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জানা যায়, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর বন্যা কবলিত বিভিন্ন গ্রামে ফেনী থেকে যাওয়া শতাধিক সংগঠন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এর মধ্যে অন্যতম সংগঠনগুলো হলো—ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবী পরিবার, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, টিম আবু তালেব, ফেনী ক্রীড়াঙ্গন প্রগতি, আল ইনসান ফাউন্ডেশন, ফেনী জেলা ছাত্র ফোরাম, এক্সপ্রেস, ছাগলনাইয়া রক্তদাতা ক্লাব, পরশুরাম বন্ধু বন্ধন রক্তদাতা ক্লাব, রাহবার, আল আমিন সংস্থা, পূর্ব সিলোনীয়া পশ্চিম পাড়া ও সাহেবের ঘাট ছাত্র ক্লাব।

এছাড়া তারুণ্যের বন্ধন, পরিবর্তন, এফবিডিও, সবুজ ফোকাস কল্যাণ ফাউন্ডেশন, মানুষের জন্য জীবন ফেনী, মধুয়াই ফাউন্ডেশন, পশ্চিম সুলাখালী যুব সমাজ কল্যাণ সংঘ, একতা সামাজিক সংগঠন, জি.ভা. সমাজ কল্যাণ যুব ফাউন্ডেশন, ফুলগাজীর মুন্সিরহাট যুবশক্তি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ইসলামিত্র যুব মহিলা সমাজকল্যাণ সংস্থা, রিভার ডেল্টা ডিএক্স ক্লাব ফেনী, উম্মাহ রক্তদাতা ক্লাব, মানবতাই জীবন এবং ফাজিলপুর সাতবাড়িয়া মানবিক সংগঠনসহ অসংখ্য সংগঠনের কর্মীরা মাঠে কাজ করছেন।

ত্রাণ তহবিলের বিষয়ে জানা যায়, গত পরশু সকালে ফেনী পুরাতন জেল রোডে বড় পর্দা লাগিয়ে বিশ্ব ফুটবল প্রতিযোগিতা চলাকালীন দর্শকদের কাছ থেকে বন্যার্তদের জন্য আর্থিক সহায়তা সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া ‘আমরা যুবরা চাই পরিবর্তন’, ‘সচেতন বাংলাদেশ’ ও ‘পরিবর্তনের জন্য একতা’ নামের তিনটি সংগঠনসহ বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দুই শতাধিক প্যাকেটসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে দুর্গত এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।

ফেনীর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক নিশাদ আদনান বলেন, আমাদের স্বেচ্ছাসেবক পরিবারের অধীনে থাকা ৩৫টি সংগঠন ইতোমধ্যে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে পৌঁছে গেছে। আগামী কয়েক দিনে আরও কিছু সংগঠন যাবে। এর বাইরেও ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে আরও অনেক সংগঠন গেছে, সবমিলিয়ে সংখ্যাটি শতাধিক পার হবে। শুকনো খাবারের পাশাপাশি আমরা পশুখাদ্যেরও ব্যবস্থা করেছি।

সাতকানিয়া ও বাঁশখালীতে সরাসরি ত্রাণ বিতরণে অংশ নেওয়া নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সাবেক জেলা সভাপতি জিয়া উদ্দিন বলেন, আমরা স্বেচ্ছাসেবকদের একটি দল সরাসরি দুর্গত এলাকায় এসে বন্যার্তদের মাঝে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিয়েছি। আমাদের বিতরণকৃত সহায়তার মধ্যে ছিল মুড়ি, চিড়া, বিস্কুট, বিশুদ্ধ পানি, পাউরুটি, গুড়, স্যানিটারি প্যাড, শিশুদের খাবার, মোমবাতি ও দিয়াশলাই। এছাড়া বন্যাপরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় প্যারাসিটামল, খাবার স্যালাইন, ডায়রিয়া ও অ্যালার্জির ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।

বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোকে নৈতিক দায়িত্ব উল্লেখ করে আরেক সংগঠক সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, এই দুর্যোগময় সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করছি। আমাদের পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও এর আশেপাশের সকল স্তরের মানুষকে বন্যার্তদের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।

দাগনভূঞার আল আমিন সংস্থার স্বেচ্ছাসেবী নাহিদুল ইসলাম সৈকত বলেন, আমরা ফেনীর বেকের বাজারের আল-আমিন সংস্থার উদ্যোগে আড়াই শতাধিক বাজার সামগ্রী, ওষুধ ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা সরঞ্জামসহ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় রওনা হয়েছি। আমরা চট্টগ্রামবাসীর বিপদে পাশে রয়েছি।

এদিকে এসব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। চট্টগ্রামবাসীর বিপদে তারা যে ভূমিকা রাখছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

বিষয় :ফেনী