শেখ হাসিনা ভারতে বসে বিষধর সাপের মতো উঁকিঝুঁকি মারে: শিবির সভাপতি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নোয়াখালী
শেখ হাসিনা ভারতে বসে বিষধর সাপের মতো উঁকিঝুঁকি মারে: শিবির সভাপতি
নোয়াখালী কলেজে নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত ক্যারিয়ার গাইডলাইনে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। ছবি : এশিয়া পোস্ট

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে গণহত্যার বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়ে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, ভারতে বসে তিনি বিষধর সাপের মতো উঁকিঝুঁকি মারেন। আমরা চাই তিনি দেশে ফিরুন, দেশের জনগণ বিমানবন্দরে তাকে রিসিভ করবে। এরপর কারাগার তার জন্য প্রস্তুত আছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে নোয়াখালী শহরের একটি বেসরকারি কনভেনশন হলে নোয়াখালী কলেজের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ইসলামী শিবির সভাপতি বলেন, তাকে (শেখ হাসিনা) আসতে হবে। বাংলাদেশে যে গণহত্যা চালিয়েছে, তার বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। আমরা তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারকে বলছি। ওখানে বসে বিষধর সাপের মতো উঁকিঝুঁকি মারেন। যখন দেখেন তাকে নিয়ে আলোচনা কমে গেছে, তখন হঠাৎ করে একটি ভিডিও ছেড়ে দেন।

তিনি বলেন, শুনেছি ডিসেম্বরে আসছে। কোন ডিসেম্বর, সেটা বলেননি। আমরা চাই, তার কথা অনুযায়ী ডিসেম্বরে আসুক। দেশের জনগণ বিমানবন্দরে তাকে রিসিভ করবে। এরপর কারাগার তার জন্য প্রস্তুত আছে। শুনেছি, সরকার ফাঁসির দড়ি অর্ডার দিয়েছে। তাকে আসতেই হবে।

প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে আমাদের দেশের প্রশাসনগুলোতে নগ্ন দলীয়করণ চলছে! একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের না হলে কোনো জায়গায় ভিসি হওয়া যাচ্ছে না। দুনিয়াতে কি আর কোনো যোগ্য শিক্ষক নেই? শুধু একমাত্র কোয়ালিটি হচ্ছে ছাত্রদল-বিএনপি করতে হবে, এমন বন্দোবস্তকে আমরা ধিক্কার জানাই। নির্বাচন না দিয়ে নিজেদের প্রশাসক বসানো হচ্ছে; ছাত্ররা এই নতুন বন্দোবস্তের জন্য জীবন দেয়নি।

ক্যাম্পাস রাজনীতি ও ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন দিলে কী ইতিবাচক পরিবর্তন হয়, তা ডাকসু, চাকসু, রাকসু কিংবা জাহাঙ্গীরনগরে দেখা গেছে। সেখানে কোনো হল-বাণিজ্য, ভর্তি-বাণিজ্য, সিট দখল, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি চলে না। গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবার ব্যবসাসহ সবকিছু যখন বন্ধ হয়ে গেছে, তখন কিছু সংগঠনকে তাদের নেতার নেতৃত্ব জাহির করার জন্য গাঁজাখোর ও অছাত্রদের ৩০০-৫০০ টাকা দিয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল-মিটিং করাতে হচ্ছে।

অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, তারা বড় কোনো প্রোগাম করতে পারে না, কারণ তাদের অর্থের সংকুলান নেই। নিজের পকেটের টাকা দিয়ে তো কেউ রাজনীতি করে না! তারা শুধু এমন জায়গায় প্রোগ্রাম করে, যেখানে ৪ টাকা খরচ করে ৫ টাকা পকেটে ঢোকানো যায়। এটা হচ্ছে রাজনীতির এক ধরনের ব্যবসা। এই বিজনেসটা যখন বন্ধ হয়ে যায়, তখন রাজনীতি বা চেতনার কথা আর কারও মাথায় ঢোকে না।

অনুষ্ঠানে জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার, নোয়াখালী শহর শিবিরের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাহবুব, সেক্রেটারি মো. বোরহান উদ্দিন, নোয়াখালী কলেজ শাখার সভাপতি আবদুল কাদের আল আমিন, সেক্রেটারি মো. ইব্রাহিমসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয় :নোয়াখালী