‘অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে ডিবির বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে’

রাজধানীতে অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাজধানীতে অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পৃথক তিনটি অভিযানে দুইটি বিদেশি বন্দুক, একটি বিদেশি এলজি, ১৫ রাউন্ড লিড বল কার্তুজ, ১ হাজার ৭৫০ বোতল ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ, ২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একাধিক যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. জয়নাল (৪২), মো. সামিউল হক (৪৩), নুর ইসলাম সুরুজ (৪৪), মো. হাফিজুর রহমান ওরফে লালমিয়া (৪৫), সোহান চৌধুরী (৩০), মো. রবিউল ইসলাম মুন্না (২৪) এবং মো. কাশেম (৩৫)।
ডিবি প্রধান জানান, সোমবার ভোরে গাবতলী ব্রিজ এলাকায় ডিবির মিরপুর বিভাগের বিশেষ চেকপোস্টে অস্ত্র ও মাদক বহনকারী দুটি প্রাইভেটকার আটকের চেষ্টা করা হলে একটি গাড়ি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া করে একজনকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাড়ি তল্লাশি করে দুইটি বিদেশি বন্দুক, একটি বিদেশি এলজি, ১৫ রাউন্ড লিড বল কার্তুজ, ৫৫০ বোতল ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ এবং দুটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ রাজধানীতে এনে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছে সরবরাহ করছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তারা অস্ত্রধারী এস্কর্ট গাড়ি ব্যবহার করত। এ ঘটনায় অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ডিবির ওয়ারী বিভাগের পৃথক অভিযানে উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় আরও ১ হাজার ২০০ বোতল ভারতীয় এস্কাফ সিরাপসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় একটি পিকআপ ও একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।
এ ছাড়া ডিবির উত্তরা বিভাগের বিমানবন্দর জোনাল টিম কাফরুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি এক্স নোয়া মডেলের গাড়িও জব্দ করা হয়।
মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা কক্সবাজার থেকে বিভিন্ন পণ্যবাহী পার্সেলের আড়ালে ইয়াবা এনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে ডিবি প্রধান বলেন, অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে ডিবির বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের মূল হোতা, অর্থদাতা ও পলাতক সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ডিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।





