সিটি নির্বাচন/সিলেটে জামায়াতের প্রার্থী বাছাইয়ে অনলাইন ভোট, আলোচনায় যারা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জোরালো প্রস্তুতি শুরু করেছে সংসদে প্রধান বিরোধী দলে থাকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে দলটি। দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে ৮টিতে এরই মধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। সিলেটসহ অন্য সিটিতে প্রার্থীর বাছাইয়ে এ মাসেই কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
জামায়াতের একাধিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিলেট সিটিতে প্রার্থী বাছাইয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিমত দেখা দেওয়ায় কিছুটা চূড়ান্ত করতে বিলম্ব হচ্ছে। কয়েক মাস আগে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে প্রার্থী বাছাইয়ে নাম প্রস্তাব চায় কেন্দ্র। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনজনের নাম প্রস্তাব করা হলে কেন্দ্র থেকে পুনরায় বর্ধিত পরিসরে নাম পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে তরুণ, উচ্চশিক্ষিত ও বিচক্ষণ প্রার্থী চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে দলটি।
প্রথম পর্যায়ে পাঠানো প্রস্তাবে তিনজনের মধ্যে ছিলেন সিলেট জেলা জামায়াতের আমির ও সিলেট-১ আসনের সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ও জেলার নায়েবে আমির মাওলানা লোকমান আহমদ। এই প্রস্তাবের সঙ্গে দ্বিমত জানিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনরায় নাম প্রস্তাবের নির্দেশ দেয় এবং নেতাকর্মীদের কাছে স্বতন্ত্র মতামতের জন্য আলাদা অনলাইন ফরম পাঠায়। এই ফরমের মাধ্যমে প্রত্যেকে নিজেদের পরামর্শ দিয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন প্রস্তাবে তিনজনের সঙ্গে ড. আনোয়ারুল ওয়াদুদ টিপুর নাম যোগ হয়েছে। ২০১১ ও ২০১২ সালের তিনি সিলেট মহানগর শিবিরের সভাপতি এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমান ড. টিপু ফিলিপাইনের খ্রিস্টিয়ান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হিসেবে পাঠদান করছেন এবং ৫ আগস্টের পর থেকে দেশে জামায়াতের নানা কর্মসূচিতে প্রকাশ্যে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে।
জামায়াতের একাধিক সূত্র বলছে, আনোয়ারুল ওয়াদুদ টিপুকে প্রার্থী করার ক্ষেত্রে মূলত ছাত্রশিবির ও জামায়াতের তৃণমূল নেতাকর্মীরা চাপ দিচ্ছেন। বিষয়টি কেন্দ্রের নজরে পৌঁছেছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাওলানা হাবিবুর রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এক লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৩ ভোট পেয়েছিলেন। ফখরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মহানগর জামায়াতকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন এবং তিনি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের ছোট ভাই। অন্যদিকে, মাওলানা লোকমান আহমদ সিলেট-৩ আসনে মনোনয়ন পেলেও জোটের সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছিলেন। পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে এই তিনজনের একজনকে চূড়ান্ত প্রার্থী করার মত দেন জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতারা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই তিনজন প্রার্থীর বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি একমত পোষণ করেনি। তিনজন ছাড়াও নতুন করে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য শূরা সদস্যদের মতামত জানানোর পরামর্শ দেয়। এরই প্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে দ্বিতীয় দফায় শূরা সদস্যদের মতামত নেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে দলটির সিলেট মহানগর নায়েবে আমির ড. নুরুল ইসলাম বাবুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, প্রার্থী নির্বাচনে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা হচ্ছে। সম্প্রতি নতুন করে সদস্যদের কাছ থেকে পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। একটি ফরমের লিংকে প্রত্যেকে নিজেদের স্বতন্ত্র মতামত কেন্দ্রে জমা দিয়েছেন। এখন কেন্দ্র চূড়ান্তভাবে যাকে মনোনয়ন দেবেন তিনিই সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হবেন।
সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘এই বিষয়টা এখনো প্রক্রিয়াধীন। কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং আরো কিছু বর্ধিত পরিসরের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত তিনজন ছাড়াও বিকল্প কিছু থাকতে পারে। তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা মোতাবেক আগের পরামর্শ রিভিউ করে নেওয়া হয়েছে। নতুন করে পরামর্শের ভিত্তিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে গত জুন মাসে ৮টিতে প্রাথমিকভাবে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। গত ২২ জুন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এসব প্রার্থী চূড়ান্ত হয়। চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন দলের মহানগর উত্তর শাখার আমির সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি মো. আবু সাদিককে (সাদিক কায়েম), চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী, গাজীপুরে তোকাত গাজী উসমান পাশা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী অধ্যাপক হাফিজুর রহমান, বরিশালে দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, রংপুরে মহানগর শাখার আমির এ টি এম আজম খান, খুলনায় কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরীর আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এবং নারায়ণগঞ্জে মহানগর শাখার আমির মোহাম্মদ আবদুল জব্বার।
অন্য যে সব সিটি করপোরেশনে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি তার মধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশন একটি। এ ব্যাপারে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এশিয়া পোস্টকে বলেন, সিলেটসহ কয়েকটির প্রার্থী চূড়ান্ত করতে কাজ করছে কেন্দ্র। স্থানীয়ভাবে মতামত নেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ।
কবে সিদ্ধান্ত আসবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। এ মাসেই নির্বাহী পরিষদের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলেই গণমাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।






