পথরোধ করে ব্যবসায়ীকে হাতুড়িপেটা, রাতে বাড়িতে গুলি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আরিফুল ইসলাম আরিফ (৩৮) নামের এক ব্যবসায়ীকে পথরোধ করে তার ওপর হামলা হয়েছে। এ সময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাকে হাতুড়িপেটা করে গুরুতর জখম করে। পরে তার গ্রামের বাড়িতে গিয়েও হামলা করে কয়েক দফা গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টা ও রাত দেড়টায় দুটি পৃথক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী ও একটি কিশোর গ্যাং চক্রের সদস্যরা এ হামলার সঙ্গে জড়িত।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ব্যবসায়িক কাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন আরিফুল। লালনবাজার এলাকায় পৌঁছলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তার পথরোধ করে। এ সময় সুজন ও রিশান নামের দুই যুবকের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আরিফুলকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে।
মারধরের একপর্যায়ে আরিফুলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে সন্ত্রাসীরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করে। এরপর তারা আরিফুলের কাছে থাকা ব্যবসায়িক লেনদেনের নগদ লক্ষাধিক টাকা ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়।
লালনবাজারের ঘটনার পরপরই ৫-৬টি মোটরসাইকেলে করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হাঁসদিয়া চরে আরিফুলের গ্রামের বাড়িতে চড়াও হয়। সেখানে তারা বাড়িঘর ভাঙচুরের চেষ্টা চালায় এবং কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। গভীর রাতে গুলির শব্দে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আরিফুলের স্বজনদের দাবি, কুমারখালী উপজেলা বিএনপির একাংশের কিছু নেতাকর্মীর নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছিলেন আরিফুল ইসলাম। মূলত বালুঘাটের দখল ও আধিপত্য বিস্তারের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় ছাত্রদল নেতা সুজন, রিপন, মানিয়ার এবং কেশবপুর এলাকার রিশান গ্রুপের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে এই হামলা চালিয়েছে। এলাকাবাসী এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জানতে চাইলে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ব্যবসায়ীর ওপর হামলা ও রাতে গুলির খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
ওসি আরও জানান, এই ঘটনায় এখনো ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে ওই এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।





