Advertisement

৯০ দিনেই কমতে পারে HbA1c, জানালেন চিকিৎসক

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
৯০ দিনেই কমতে পারে HbA1c, জানালেন চিকিৎসক
ছবি : সংগৃহীত

ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর অনেক মানুষের জীবন যেন হঠাৎ বদলে যায়। খাবারে সতর্কতা, নিয়মিত ওষুধ, ব্যায়াম আর রক্তে শর্করার হিসাব রাখা যেন দৈনন্দিন রুটিন হয়ে দাঁড়ায়। তবে অনেকেই মনে মনে একটা প্রশ্ন করেন, শুধু জীবনযাত্রা বদলালেই কি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব?

সম্প্রতি ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. অক্ষত চাড্ডা সামাজিক মাধ্যমে এমন কিছু অভ্যাসের কথা বলেছেন, যা নিয়মিত মেনে চললে ৯০ দিনের মধ্যে HbA1c, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও রক্তে শর্করার মাত্রা কমতে পারে।

তার মতে, এটি কোনো ম্যাজিক নয়। বরং ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাস দীর্ঘসময় ধরে মেনে চলার ফল।

তিনি খাবারের পর হাঁটা, নিয়মিত শরীরচর্চা, ভালো খাবার নির্বাচন, পর্যাপ্ত ঘুম ও চাপ কমানোর মতো অভ্যাসের ওপর গুরুত্ব দেন।

এই বিষয়গুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়। আকাশ হেলথকেয়ারের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. রাকেশ পণ্ডিত বলেন, এসব পরামর্শের বেশিরভাগই বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত।

তার মতে, ওজন কমানো, নিয়মিত ব্যায়াম, ঘুমের মান ভালো রাখা, মানসিক চাপ কমানো এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

বিশেষ করে খাবারের পর হাঁটার অভ্যাসকে তিনি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।

ডা. পণ্ডিত বলেন, খাওয়ার পর হাঁটলে শরীরের পেশি গ্লুকোজ ব্যবহার করতে শুরু করে। এতে রক্তে শর্করার হঠাৎ বেড়ে যাওয়া কিছুটা কমে।

গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের ১০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে হাঁটলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়। এমনকি মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের দ্রুত হাঁটাও রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

তবে হাঁটার জন্য খুব বেশি চাপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিয়মিত ও স্বাভাবিক গতির হাঁটাই যথেষ্ট।

অনেকেই এখন গাট হেলথ বা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্ব দিচ্ছেন। এ নিয়ে গবেষণা বাড়লেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তবে স্বাস্থ্যকর অন্ত্র বিপাকক্রিয়া ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

একইভাবে ভিটামিন ডি বা ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এগুলোকে সরাসরি ডায়াবেটিসের মূল কারণ হিসেবে ধরা হয় না।

HbA1c আসলে গত প্রায় তিন মাসের গড় রক্তে শর্করার মাত্রা বোঝায়। তাই কেউ যদি নিয়মিতভাবে ভালো অভ্যাস মেনে চলেন, তাহলে ৯০ দিনের মধ্যে পরিবর্তন দেখা যাওয়া সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন করে ডায়াবেটিস ধরা পড়া ব্যক্তি বা যাদের ওজন বেশি, তাদের ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার পরিবর্তনে দ্রুত উন্নতি দেখা যেতে পারে।

তবে যাদের দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস রয়েছে বা অগ্ন্যাশয়ের ক্ষতি বেশি হয়েছে, তাদের অনেক সময় ওষুধ চালিয়ে যেতেই হতে পারে।

অনলাইনে অনেক সময় ব্যায়ামকে মেটফরমিনের মতো ওষুধের সঙ্গে তুলনা করা হয়। এ বিষয়ে ডা. পণ্ডিত বলেন, নিয়মিত ব্যায়াম ও ওজন কমানো অনেক ক্ষেত্রে ওষুধের মতোই কার্যকর হতে পারে। কারণ ব্যায়াম শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে।

তবে তিনি এটাও মনে করিয়ে দেন যে ডায়াবেটিস সবার ক্ষেত্রে একরকম নয়। কারও জন্য শুধু জীবনযাত্রার পরিবর্তন যথেষ্ট হতে পারে, আবার কারও জন্য ওষুধও প্রয়োজন হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধারাবাহিকতা।

হঠাৎ কয়েকদিন নিয়ম মেনে চলার চেয়ে প্রতিদিন ছোট ছোট ভালো অভ্যাস ধরে রাখা অনেক বেশি কার্যকর। কারণ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর করে না, বরং প্রতিদিনের জীবনযাত্রার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান টাইমস