কোন কোন ক্ষেত্রে কোরবানির গোশত পুরোটা রাখা যায়

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
কোন কোন ক্ষেত্রে কোরবানির গোশত পুরোটা রাখা যায়
প্রতীকী ছবি

কোরবানি করতে হবে আল্লাহর জন্য। কোরবানিতে আল্লাহ শুধু মানুষের নিয়ত বা তাকওয়া দেখেন। লোক দেখানো কিংবা আল্লাহর খুশি ছাড়া ভিন্ন নিয়তে কোরবানি করলে আল্লাহ কবুল করেন না। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের কোরবানির পশুর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না। আল্লাহর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া বা আল্লাহভীতি।’ (সুরা হজ, আয়াত: ৩৭)

কোরবানি বা পশু জবাই আল্লাহর জন্য হলেও এর গোশত খাওয়া আমাদের জন্য বৈধ করে দিয়েছেন তিনি। আল্লাহ বলেন, ‘তা থেকে তোমরা নিজেরা খাও এবং হতদরিদ্রদের খাওয়াও।’ (সুরা হজ, আয়াত: ২৮)

কোরবানির গোশত সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। এক ভাগ পরিবারের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়স্বজন ও আরেক ভাগ গরিব-দুস্থদের জন্য। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘হজরত মুহাম্মদ (সা.) কোরবানির গোশত তিন ভাগ করে একভাগ নিজ পরিবারকে খাওয়াতেন। এক ভাগ প্রতিবেশীদের দিতেন ও এক ভাগ অভাবীদের মধ্যে সদকা করতেন।’ (মিরআত, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ১২০; ইবনে কুদামা, মুগনি, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ১০৮-১০৯)

ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানির গোশত তিন ভাগ করা মুস্তাহাব। কিন্তু এটি জরুরি নয়। কোরবানিদাতা চাইলে সব গোশত নিজে খেতে পারবে। সব দান-সদকাও করতে পারবে।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোরবানির গোশত দান-সদকা না করে পুরোটা নিজের জন্য রেখে দেওয়া উত্তম। কোরবানিদাতার ছেলে-মেয়ে কোরবানি না দিলে বা তার ঘরে সদস্য সংখ্যা বেশি হলে তিন ভাগ করার প্রয়োজন নেই। বরং পুরোটা নিজেদের জন্য রাখা অধিক সওয়াবের কাজ। অন্যদিকে ভাইবোন, নিকটাত্মীয়রা যদি কোরবানি না দেন, তাহলে অন্য মানুষের মাঝে কোরবানির গোশত বণ্টন না করে তাদের মধ্যে বণ্টন করা উত্তম। একদিকে যেমন দায়িত্ব পালন হবে, অন্য দিকে দানের সওয়াবও পাওয়া যাবে।

সহিহ বুখারি ও মুসলিমের হাদিসে আছে, সুরা আলে ইমরানের ‘তোমরা কখনও কল্যাণ লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ তোমরা যা ভালোবাসো তা দান না করো’ এ আয়াত নাজিল হলে সাহাবিদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। নিজেদের প্রিয় জিনিস খুঁজতে থাকেন তারা। আবু তালহা (রা.) ছিলেন মদিনার ধনী সাহাবি। মসজিদে নববির বিপরীত দিকে তার ‘বিরহা’ নামে একটি বাগান ছিল। সেখানে কুয়াও ছিল। নবীজি (সা.) মাঝে মাঝে বাগানে যেতেন। ছায়ায় বসতেন। কুয়ার পানি খেতেন। আবু তালহা নবীজির কাছে এসে বললেন, আমি এ বাগানটি আল্লাহর পথে ব্যয় করতে চাই। আপনি এটি পছন্দনীয় জায়গায় ব্যয় করুন। নবীজি বললেন, তুমি তোমার নিজের আত্মীয়দের মধ্যে ভাগ করে দাও। আবু তালহা তাই করলেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দানের মধ্যে সওয়াবের দিক দিয়ে সবচেয়ে মর্যাদাবান হলো, যা তুমি তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য খরচ করো।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ১৯৩১)

রাজধানীর তেজগাঁও রেলওয়ে জামিয়া ইসলামিয়ার শাইখুল হাদিস ও শিক্ষা সচিব মুফতি সফিউল্লাহ আদম বলেন, ‘যে ব্যক্তির সন্তানরা কোরবানি দেয়নি, ওই সন্তানের ঘরে ব্যক্তির নাতি-নাতনি আছে, পরিবারের সদস্য সংখ্যাও বেশি, তাহলে তিন ভাগ না করে নিজেদের জন্য পুরোটা রাখা জায়েজ। এটা শুধু জায়েজ নয়, বরং উত্তম। ব্যক্তির ওপর যাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব আছে, তাদেরকে দিয়ে সদকা শুরু করা উত্তম। আপনজনের ওপর খরচ করা বড় সদকা।’

কোরবানির গোশত তিন ভাগ করে নিজের জন্য এক ভাগ রেখে অন্য দুই ভাগ দান করা মুস্তাহাব জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেশি হলে, নিজের সন্তান, ভাইবোন ও চাচা, মামারা কোরবানি না দিলে তিন ভাগ করার প্রয়োজন নেই। কোরবানিদাতা পুরোটা রাখতে পারবেন।’