আগামী সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে: আইনমন্ত্রী

আগামী চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিষয়ে আপিল বিভাগের রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তবে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার কী প্রক্রিয়ায় এবং কারা নিয়ে গঠিত হবে, সে বিষয়ে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি দেখার পর বিস্তারিত জানা যাবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত বেঞ্চ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখেন। এ রায়ের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহাল হয়েছে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
রায়ের পর সাংবাদিকরা জানতে চান, পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে কি না। জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ইনশাল্লাহ, ইনশাল্লাহ। এটি আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিএনপির আন্দোলনের ফসল। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে আন্দোলন হয়েছিল, তার ফল ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই ধারণা থেকেই পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৯৬ সালে বিএনপি সংসদে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বিল উত্থাপন করে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাংগঠনিক কাঠামো প্রণয়ন করেছিল।
তিনি বলেন, গত ১৬-১৭ বছর ধরে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করে এসেছে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ এবং ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’—এই দাবিকে সামনে রেখেই আন্দোলন পরিচালিত হয়েছে।
আইনমন্ত্রীর ভাষ্য, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এ কারণে এ বিষয়ে সরকার রাজনৈতিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।




