ঈদের দিন ডায়াবেটিস রোগীরা কতটা গরুর মাংস খেতে পারবেন

ঈদুল আজহা মানেই পরিবারের সঙ্গে আনন্দ, অতিথি আপ্যায়ন আর নানা ধরনের গরুর মাংসের খাবার। ভুনা, কাবাব, রেজালা কিংবা কালাভুনা, ঈদের কয়েক দিন যেন গরুর মাংস ছাড়া চলেই না। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এই সময়টা একটু বেশি সতর্ক থাকার। কারণ অতিরিক্ত লাল মাংস, চর্বি ও ভারী খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ানোর পাশাপাশি হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
তাই বলে ডায়াবেটিস থাকলে একেবারেই গরুর মাংস খাওয়া যাবে না, বিষয়টি এমন নয়। সঠিক পরিমাণ, সঠিক অংশ এবং রান্নার ধরন মেনে চললে ঈদের খাবারও উপভোগ করা সম্ভব।
ডায়াবেটিস রোগী কি গরুর মাংস খেতে পারেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীরা পরিমিত পরিমাণে চর্বিহীন গরুর মাংস খেতে পারেন। গরুর মাংসে ভালো মানের প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক এবং ভিটামিন বি১২ থাকে, যা শরীরের জন্য উপকারী। তবে সমস্যা তৈরি হয় যখন অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত বা প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়া হয়।
বিশেষ করে বেশি চর্বিযুক্ত মাংস রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে। এতে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ে। আর ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এসব ঝুঁকি আগেই কিছুটা বেশি থাকে।
কতটা গরুর মাংস খাওয়া নিরাপদ?
পুষ্টিবিদদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীদের এক বেলায় প্রায় ৬০ থেকে ৯০ গ্রাম রান্না করা চর্বিহীন গরুর মাংস খাওয়া তুলনামূলক নিরাপদ। অর্থাৎ ছোট বা মাঝারি আকারের ২ থেকে ৩ টুকরা মাংস যথেষ্ট।
এক দিনে বারবার গরুর মাংস না খেয়ে একবেলা খেলেই ভালো। পাশাপাশি প্লেটের বাকি অংশে রাখতে হবে শাকসবজি, সালাদ ও আঁশযুক্ত খাবার।
ঈদের সময় অনেকে সকালে নেহারি, দুপুরে ভুনা আর রাতে কাবাব খান। এই অভ্যাস ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ এতে শরীরে অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ক্যালোরি জমে যায়।
গরুর কোন অংশ খাওয়া ভালো?

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চর্বিহীন অংশ বেছে নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যেমন - স্যারলয়েন বা পিঠের নরম মাংস, টেন্ডারলয়েন বা কোমরের ভেতরের নরম মাংস, ফ্ল্যাঙ্ক স্টেক বা পেটের পাশের চর্বিহীন মাংস এবং কম চর্বিযুক্ত রানের মাংস।
অন্যদিকে যেসব অংশে বেশি চর্বি থাকে, সেগুলো কম খাওয়াই ভালো। যেমন - রিবস বা পাঁজরের মাংস, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ভুঁড়ি বা কলিজা ও প্রসেসড মিট যেমন সসেজ, সালামি বা বিফ সসেজ এড়িয়ে চলুন।
রান্নার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ
শুধু মাংসের পরিমাণ নয়, রান্নার পদ্ধতিও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে কম তেলে রান্না করা মাংস খান। অতিরিক্ত ঘি বা মাখন ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। ভালো হবে যদি পোড়া বা অতিরিক্ত ভাজা মাংস এড়িয়ে চলার পাশাপাশি ঝোল বা ভুনায় কম তেল রাখুন।
গ্রিল, সেদ্ধ বা হালকা ভুনা ধরনের রান্না তুলনামূলক ভালো বিকল্প হতে পারে।
মাংসের সঙ্গে কী খাবেন?
শুধু মাংস খেলেই হবে না, সঙ্গে কী খাচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ভালো হবে যদি বেশি পরিমাণে সালাদ খান ও খাবারে শাকসবজি রাখেন। এছাড়া সাদা ভাত, পোলাও বা বিরিয়ানি কম খান। সফট ড্রিংকস ও মিষ্টি এড়িয়ে চলেন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
অনেকে ঈদের দিনে একসঙ্গে অনেক খাবার খেয়ে ফেলেন। এতে হঠাৎ করেই রক্তে শর্করা বেড়ে যেতে পারে। তাই অল্প অল্প করে ভাগ করে খাওয়া ভালো।

যাদের আরও বেশি সতর্ক থাকা দরকার
যেসব ডায়াবেটিস রোগীর সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি সমস্যা বা হৃদরোগ আছে, তাদের আরও বেশি সতর্ক থাকা উচিত। এ ছাড়া যাদের কোলেস্টেরল বেশি, তাদের চর্বিযুক্ত মাংস যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভালো।
ইনসুলিন ব্যবহার করেন এমন রোগীদের খাবারের সময় ও পরিমাণ নিয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।
বিকল্প প্রোটিনও রাখতে পারেন
ঈদের সময় শুধু গরুর মাংসের ওপর নির্ভর না করে মাছ, মুরগি, ডাল বা বাদামজাত খাবারও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাছ ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন হৃদস্বাস্থ্যের জন্য তুলনামূলক ভালো।
ঈদ মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দ যেন অসুস্থতার কারণ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। ডায়াবেটিস থাকলেও গরুর মাংস খাওয়া যাবে, তবে পরিমাণ বুঝে, চর্বি কমিয়ে এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না করে খেতে হবে।
সচেতনভাবে খেলে ঈদের সুস্বাদু খাবারও উপভোগ করা যাবে, আবার শরীরও থাকবে ভালো।
সূত্র: হেল্থলাইন, হেল্থলাইনও মেডিকেল নিউজ টুডে
.png)







