নরওয়ে-ইংল্যান্ডে কার জয়ের সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
নরওয়ে-ইংল্যান্ডে কার জয়ের সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে নরওয়ে ও ইংল্যান্ড। একদিকে গোলের পর গোল করে চলা আর্লিং হালান্ড, অন্যদিকে হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামে সমৃদ্ধ ইংল্যান্ড। ম্যাচটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার আভাস দিলেও শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডকেই এগিয়ে রাখছে অপটার সুপারকম্পিউটার।

ম্যাচের সম্ভাব্য ফল জানতে ২৫ হাজারবার কৃত্রিম অনুকরণ চালিয়েছে অপটা। সেখানে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ৫০.৪ শতাংশ ম্যাচ জিতেছে ইংল্যান্ড। নরওয়ের জয়ের সম্ভাবনা রাখা হয়েছে ২৫.১ শতাংশ। বাকি ২৪.৬ শতাংশ ম্যাচ ড্র হয়েছে।

অতিরিক্ত সময় ও টাইব্রেকারসহ শেষ চারে ওঠার সামগ্রিক হিসাবে ইংল্যান্ডের সম্ভাবনা আরও বেশি। টমাস টুখেলের দল ৬২.৩ শতাংশ ক্ষেত্রে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে। নরওয়ের শেষ চারে ওঠার সম্ভাবনা ৩৭.৭ শতাংশ।

অপটার হিসাবে চলতি বিশ্বকাপের চারটি কোয়ার্টার ফাইনালের মধ্যে এটিই সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ লড়াই। ফ্রান্স, স্পেন ও আর্জেন্টিনাকে নিজেদের কোয়ার্টার ফাইনালে তুলনামূলক বেশি ব্যবধানে এগিয়ে রাখা হয়েছিল।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে বড় চমক দেখিয়েছে নরওয়ে। দুটি গোলই করেন হালান্ড। প্রথমবার কোনো বড় প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা দলটি চলতি আসরে পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই জিতেছে। একমাত্র হারটি এসেছে ফ্রান্সের বিপক্ষে, যে ম্যাচে প্রথম একাদশে ১০টি পরিবর্তন এনেছিলেন কোচ স্তালে সোলবাকেন।

নরওয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হালান্ড। নিজের প্রথম চার বিশ্বকাপ ম্যাচেই গোল করেছেন ম্যানচেস্টার সিটি তারকা। সাত গোল করতে তার প্রয়োজন হয়েছে মাত্র ১৮টি শট। নরওয়ের হয়ে টানা ১৪টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গোল করেছেন তিনি, এই সময়ে তার গোল ২৭টি।

ইংল্যান্ডের প্রধান ভরসা কেইন। চলতি বিশ্বকাপে ছয় গোল করে হালান্ডের চেয়ে মাত্র এক গোল পিছিয়ে রয়েছেন অধিনায়ক। বড় প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বে নিজের সর্বশেষ ১২ ম্যাচে কেইনের গোল ১১টি। মেক্সিকোর বিপক্ষে জোড়া গোল করা বেলিংহামও রয়েছেন দারুণ ছন্দে।

ইতিহাস ইংল্যান্ডের পক্ষে থাকলেও সতর্ক হওয়ার কারণ রয়েছে। দুই দল আগের ১২ সাক্ষাতে ইংল্যান্ড জিতেছে সাতটি, নরওয়ে দুটি এবং ড্র হয়েছে তিনটি। সর্বশেষ চার ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করতে পারেনি নরওয়ে।

তবে বিশ্বকাপে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক নকআউট রেকর্ড ভালো নয়। এমন ছয় ম্যাচের পাঁচটিতেই বিদায় নিয়েছে তারা। বিশ্বকাপের আগের ১০টি কোয়ার্টার ফাইনালের মাত্র তিনটিতে জিতেছে ইংলিশরা।

তাই অপটার হিসাবে ইংল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও নরওয়ের আরেকটি অঘটনের সম্ভাবনা একেবারে কম নয়। বিশেষ করে হালান্ড যে ছন্দে রয়েছেন, তাতে একটি মুহূর্তই বদলে দিতে পারে ম্যাচের সব হিসাব।

মায়ামিতে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ৩টায়।