যে পাঁচ কারণে ফ্রান্সকে চমকে দিতে পারে মরক্কো

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
যে পাঁচ কারণে ফ্রান্সকে চমকে দিতে পারে মরক্কো
মরক্কো ফুটবল দল। ছবি: সংগৃহীত

চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মরক্কোর স্বপ্ন থামিয়েছিল ফ্রান্স। এবার সেই ফ্রান্সই আবার সামনে। পার্থক্য হলো, ২০২৬ বিশ্বকাপে মরক্কো আর শুধু সাধারণ কোন দল নয়; নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়ে শেষ আটে ওঠা এক আত্মবিশ্বাসী দল।

বৃহস্পতিবার বোস্টন অঞ্চলের ফক্সবরোতে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে মরক্কো। কিলিয়ান এমবাপ্পেদের দল ফেভারিট, সেটি মানছেন মরক্কো কোচ মোহামেদ উয়াহবিও। তবে তার দলও বিশ্বাস করে, এই ম্যাচে ফ্রান্সকে চমকে দেওয়া সম্ভব। সেই বিশ্বাসের পেছনে আছে কয়েকটি বড় কারণ।

প্রথম কারণ: বড় দলকে ভয় না পাওয়া। চলতি বিশ্বকাপের শুরুতেই ব্রাজিলের বিপক্ষে মরক্কো দেখিয়েছে, তারা নাম দেখে পিছিয়ে যায় না। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে প্রথমার্ধের বড় অংশে দাপট দেখিয়েছিল আটলাস লায়ন্সরা। ম্যাচ শেষ হয়েছিল ১-১ সমতায়। ২০২২ বিশ্বকাপেও স্পেনকে টাইব্রেকারে হারিয়েছিল মরক্কো, পর্তুগালকেও বিদায় করেছিল। বেলজিয়ামের মতো দলকেও হারানোর অভিজ্ঞতা আছে তাদের।

দ্বিতীয় কারণ: খেলার ধরনে পরিবর্তন। ২০২২ সালে মরক্কো ছিল বেশি রক্ষণনির্ভর, পাল্টা আক্রমণে গোল খোঁজা দল। এবার উয়াহবির অধীনে তারা অনেক বেশি সাহসী ও সক্রিয় ফুটবল খেলছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে শুরুতেই সেই আত্মবিশ্বাস দেখা গেছে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও বল দখল ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ছিল স্পষ্ট। এই বিশ্বকাপে মরক্কো ইতোমধ্যে ১০ গোল করেছে, যা এক আসরে কোনো আফ্রিকান দলের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছোঁয়া সাফল্য।

তৃতীয় কারণ: আশরাফ হাকিমির ফরাসি-জ্ঞান। মরক্কোর সবচেয়ে বড় তারকা শুধু বিশ্বের অন্যতম সেরা রাইটব্যাক নন, ফ্রান্সের আক্রমণভাগের অনেক খেলোয়াড়কেই তিনি কাছ থেকে চেনেন। পিএসজিতে কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ও একসঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। ফরাসি ফুটবল সংস্কৃতি, এমবাপ্পের গতি এবং পিএসজি-সংযোগ, সব মিলিয়ে এই ম্যাচে হাকিমির ভূমিকা শুধু রক্ষণে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

চতুর্থ কারণ: দলটি এখন আর শুধু হাকিমিনির্ভর নয়। এই বিশ্বকাপে মরক্কোর মাঝমাঠ ও আক্রমণে নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররা আলো ছড়িয়েছেন। ইসমায়েল সাইবারি, আয়ুব বুয়াদ্দি ও নায়েফ এল আইনাউইয়ের মতো খেলোয়াড়রা দলকে আরও ভারসাম্য দিয়েছে। সাইবারি চোটে কোয়ার্টার ফাইনালে না থাকলেও টুর্নামেন্টে তার প্রভাব বড়। এর সঙ্গে আছেন ব্রাহিম দিয়াজ, নুসাইর মাজরাউই ও সুফিয়ান রহিমির মতো অভিজ্ঞ এবং ম্যাচ বদলে দেওয়ার সামর্থ্য রাখা ফুটবলার।

পঞ্চম কারণ: টাইব্রেকারে ইয়াসিন বোনো। ম্যাচ যদি পেনাল্টিতে যায়, মরক্কো জানে তাদের হাতে আছে বড় ভরসা। ২০২২ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে টাইব্রেকারে দুই পেনাল্টি ঠেকিয়ে নায়ক হয়েছিলেন বোনো। এবার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও টাইব্রেকারে গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেছেন তিনি। নকআউট ফুটবলে এমন গোলরক্ষক যে কোনো বড় দলের দুঃস্বপ্ন হতে পারেন।

ফ্রান্সের শক্তি, অভিজ্ঞতা ও তারকায় মরক্কোর চেয়ে এগিয়ে থাকা নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু মরক্কোও এখন আর সাধারণ আন্ডারডগ পরিচয়ে আটকে নেই। বড় দলের বিপক্ষে ভয়হীনতা, বদলে যাওয়া ফুটবল, হাকিমির অভিজ্ঞতা, তরুণদের উত্থান আর বোনোর পেনাল্টি দক্ষতা, এই পাঁচ কারণেই ফ্রান্সের বিপক্ষে আরেকটি আফ্রিকান ইতিহাস লেখার স্বপ্ন দেখছে মরক্কো।