ন্যাটো সম্মেলনের আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার জোরালো হামলা, নিহত ২৬

পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলনের ঠিক আগের দিন ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবাসিক ভবনে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো চালানো এই হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইউক্রেন। মাত্র কয়েক দিন আগে কিয়েভে রাশিয়ার আরেকটি বড় হামলায় ৩০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই ঘটনাকে একটি ‘নৃশংস হামলা’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রুশ বাহিনীর পুরোনো কৌশল এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। তারা ইউক্রেন এবং এর সাধারণ মানুষের ওপর সর্বোচ্চ বেদনা ও ক্ষয়ক্ষতি চাপিয়ে দিতে চায়।
সোমবার (৬ জুলাই) দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সুমি শহরে রুশ ড্রোন হামলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
তুরস্কের আংকারায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) অনুষ্ঠিতব্য এই ন্যাটো সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে জেলেনস্কির। ঠিক এমন এক মুহূর্তে তিনি রাশিয়ার শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে ন্যাটোর কাছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী রুশ ড্রোন এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সফল হলেও সহজে প্রতিরোধ করা যায় না এমন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে তাদের পর্যাপ্ত আত্মরক্ষামূলক অস্ত্র নেই। হামলার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বেও ব্যালিস্টিক সন্ত্রাস থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম উৎপাদন করা যাচ্ছে না, এটি অত্যন্ত অযৌক্তিক।
ন্যাটো সম্মেলন থেকে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আশা করছে কিয়েভ। এর আগে আংকারায় ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুটে বলেন, মিত্র দেশ এবং ন্যাটো অংশীদারদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যেন ইউক্রেন তার প্রয়োজনীয় সব সামরিক সহায়তা সময়মতো পায়।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, সোমবার সকালে কিয়েভের পদিলস্কি জেলার একটি বহুতল আবাসিক ভবনে আঘাত হানে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র। এতে ভবনটিতে বিশাল গর্ত তৈরি হয় এবং এর মেঝেগুলো ভেঙে দুই টুকরো হয়ে যায়। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, রাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সাইরেন বাজার সময় তারা ১০টিরও বেশি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং আকাশে আলোর ঝলকানি দেখেছেন। এই হামলায় কিয়েভ রাজধানীতে ১৮ জন এবং শহরের ঠিক বাইরে ভিশনেভে এলাকায় আরও ৮ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া সব মিলিয়ে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
চলতি সপ্তাহে এটি রাশিয়ার দ্বিতীয় হামলা যেখানে তারা বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন তৈরি প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করতে মিত্রদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে কিয়েভ।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, এই হামলায় রাশিয়া মোট ৬৮টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৫১টি আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করেছে। এছাড়া দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া শহরেও রুশ হামলায় আরও দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে কিয়েভের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।





