রপ্তানির আড়ালে তিন দেশে ১০২ কোটি টাকা পাচার করেছে জেমকন

● চা ও হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানির আড়ালে এবং ভুয়া চালানের মাধ্যমে অর্থপাচার ● বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও আমিরাতের প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ ● ব্যাংক এশিয়াসহ দেশের ১৯টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ ● জেমকন গ্রুপের নেওয়া বকেয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকা ● অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক লেনদেন, জেমকনের ৩ পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা
এশিয়া পোস্ট স্পেশাল
রপ্তানির আড়ালে তিন দেশে ১০২ কোটি টাকা পাচার করেছে জেমকন
জেমকন গ্রুপের লোগো। ছবি : সংগৃহীত

রপ্তানির আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১০২ কোটি টাকা পাচার করেছে জেমকন গ্রুপ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করা অর্থের পরিমাণ ৭৫ কোটি ৫৭ লাখ ৮৪ হাজার ৫৬৮ টাকা (৬১ লাখ ৩৯ হাজার ডলার)। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) বিশেষ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশে অনুমোদনহীন বিনিয়োগের পাশাপাশি চা ও হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানির আড়ালে এবং ভুয়া রপ্তানির মাধ্যমে এই অর্থ পাচার করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের ১৯টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গ্রুপটির প্রায় ১ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকার ঋণ বর্তমানে খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিএফআইইউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাচার হওয়া মোট অর্থের পরিমাণ অন্তত ১০২ কোটি ১৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা।

এর বাইরে সিঙ্গাপুরের রেমিট্যান্স হাউসের মাধ্যমে ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৭২৭ ডলার (৮ কোটি ৩০ লাখ ৬৬ হাজার ৯৯০ টাকা) দেশে এনে মেয়াদোত্তীর্ণ চালানের হিসাব মেলানোর (রেমিট্যান্স জালিয়াতি) চেষ্টা করা হয়েছে, যাকে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী সন্দেহজনক লেনদেন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জেমকন গ্রুপের অর্থপাচার ও আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বিএফআইইউর প্রতিবেদনে যাদের নাম

জেমকন গ্রুপের চেয়ারম্যান আমেনা আহমেদ এবং তিন পরিচালক কাজী নাবিল আহমেদ, কাজী ইনাম আহমেদ ও কাজী আনিস আহমেদ এই অনিয়মে সরাসরি জড়িত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে অর্থপাচার ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এনেছে বিএফআইইউ। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী এসব কর্মকাণ্ড অর্থপাচার বা অপরাধলব্ধ সম্পদ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দাখিল করা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জেমকন গ্রুপের পরিচালক কাজী আনিস আহমেদের বিদেশের ব্যবসার বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে বিএফআইইউ। যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের ‘অ্যাগনেটা এলএলসি’ নামের একটি পাইকারি গ্রোসারি ও চা বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানে তার ৭৫ শতাংশ মালিকানা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়াই কাজী আনিস আহমেদ, কাজী ইনাম আহমেদ ও কাজী নাবিল আহমেদ ওই প্রতিষ্ঠানে ৬১ লাখ ৩৯ হাজার ডলার (৭৫ কোটি ৫৭ লাখ ৮৪ হাজার ৫৬৮ টাকা) ঋণ দেন।

শুরুতে এই অর্থ ঋণ হিসেবে পাঠানো হলেও পরে তা শেয়ারে রূপান্তর করে মালিকানা নেওয়া হয়। বিএফআইইউ এই পুরো বিনিয়োগকে সরাসরি অর্থপাচার হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

যুক্তরাজ্য, আমিরাতেও অর্থপাচারের জাল

যুক্তরাজ্যের ‘টিটুলিয়া ইউকে লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানেও জেমকন গ্রুপের অবৈধ বিনিয়োগের তথ্য পেয়েছে বিএফআইইউ। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৩ সালের মে মাসে বন্ধ হয়ে যায়। তবে এর আগেই কাজী আনিস আহমেদ সেখানে ২ লাখ ৫০ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড বিনিয়োগ করেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫০ টাকা।

সংস্থাটি বলছে, ২০২০ সালে দুবাইয়ের ‘ডাবল কোর এলএলপি’র ব্যাংক হিসাব থেকে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৯৬৪ পাউন্ড টিটুলিয়া ইউকের হিসাবে জমা হয়। পরের বছর সিঙ্গাপুরের ‘গ্লোবাল বিজ ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট’ থেকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৩৭৬ পাউন্ড টিটুলিয়া ইউকের হিসাবে জমা পড়ে।

দুবাই ইকোনমির বাণিজ্যিক লাইসেন্সের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানকার ‘ডাবল কোর জেনারেল ট্রেডিং এলএলসি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজী আনিস আহমেদের ২৫ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। সেখানে তার পরিশোধিত মূলধন প্রায় ৭৫ হাজার দিরহাম (২৫ লাখ ১২ হাজার ১৪৮ টাকা)। বাকি ৭৫ শতাংশের মালিক দুবাইয়ের দুই নাগরিক। মালিকানার পাশাপাশি কাজী আনিস আহমেদ একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও আরব আমিরাতে ভুয়া রপ্তানি

জেমকন গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান জেমিনি সি ফুড লিমিটেড ‘ফ্যান্টম শিপমেন্ট’ বা ভুয়া রপ্তানি চালানের মাধ্যমে অর্থ পাচার করেছে বলে বিএফআইইউর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে চারটি চালানের বিপরীতে ১৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫৩৫ ডলার (১৭ কোটি ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা) মূল্যের হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি করে। তবে পণ্য পাঠানোর প্রায় এক বছরের মধ্যে তা আবার বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়।

সাধারণত পণ্য রপ্তানি করে পরে ফেরত আনলে তা পাচার মনে না-ও হতে পারে, তবে এটি বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচারের একটি পরিচিত কৌশল। হিমায়িত চিংড়ির মতো পচনশীল পণ্য কাস্টমসের ছাড়পত্র পাওয়ার এত দীর্ঘ সময় পর ফেরত আসাকে ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক’ বলেছে বিএফআইইউ। সংস্থাটির সন্দেহ, বিদেশে জেমকন গ্রুপের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান থাকায় তারা প্রকৃত পণ্য রপ্তানি না করে কেবল কাগজপত্রের কৌশল কাজে লাগিয়েছে। মূলত ডলার দেশে না এনে দীর্ঘদিন বিদেশে আটকে রাখার অজুহাত হিসেবেই এই ভুয়া রপ্তানির কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে।

চা রপ্তানির আড়ালে পাচার ও রেমিট্যান্স জালিয়াতি

জেমকন গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচারের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে বিএফআইইউ। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাগনেটা এলএলসির কাছে চা রপ্তানি করলেও ৮টি চালানের বিপরীতে গত কয়েক বছরেও ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩১২ ডলার দেশে আনেনি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ কোটি ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৬৬৬ টাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রপ্তানিকারক ও আমদানিকারক কাজী আনিস আহমেদ নিজেই। একই ব্যক্তি সুবিধাভোগী হওয়ায় প্রকৃতপক্ষে এটি একটি পরিকল্পিত অর্থপাচারের ঘটনা।

কিছু ক্ষেত্রে চায়ের রপ্তানি মূল্য বাংলাদেশে ফেরত দেখানো হলেও তা আসল আমদানিকারকের দেশ থেকে আসেনি। এই অর্থ এসেছে তৃতীয় দেশ সিঙ্গাপুরের গ্লোবাল বিজ, নাই নাগুন ও ইন্টারন্যাশনাল রেমিট্যান্স হাউসের মাধ্যমে, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী সন্দেহজনক। এভাবে তৃতীয় দেশ থেকে মোট ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৭২৭ ডলার আনা হয়েছে।

বিএফআইইউর ধারণা, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের টাকা দিয়ে রপ্তানি আয় মেলানোর চেষ্টা করা হয়েছে। প্রকৃত আমদানিকারকের কাছ থেকে টাকা না এনে তৃতীয় দেশ থেকে অর্থ পাঠানো অত্যন্ত অস্বাভাবিক।

সিঙ্গাপুরে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের রেমিট্যান্স কোনো তৃতীয় পক্ষ সংগ্রহ করেছে। পরে সেই টাকা বাংলাদেশে রপ্তানি আয় হিসেবে দেখিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ চালানের হিসাব মেলানোর অপচেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে।

ব্যাংকিং খাতে ঋণের পাহাড়

বিদেশে অর্থপাচারের পাশাপাশি দেশের ব্যাংকিং খাতেও জেমকন গ্রুপের অনিয়মের চিত্র পেয়েছে বিএফআইইউ। ব্যাংক এশিয়াসহ ১৯টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রুপটি ২ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৭৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংক এশিয়া থেকে নেওয়া জেমকন গ্রুপের ঋণের বড় অংশই মেয়াদোত্তীর্ণ ও সন্দেহজনক। গ্রুপটির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান পাথর লিমিটেড, জেমকন লিমিটেড, ক্যাসেল কনস্ট্রাকশন, চরকা এসপিসি পোলস এবং জেমকন ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারের নেওয়া ‘ডিমান্ড লোন’ বা তলবি ঋণের মান এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

এক ব্যাংকের ঋণ দিয়ে অন্য ব্যাংকের ঋণ পরিশোধেরও প্রমাণ পেয়েছে বিএফআইইউ। ব্যাংক এশিয়া থেকে নেওয়া ঋণের টাকা দিয়ে প্রাইম ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখার দায় মেটানো হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংক এশিয়ায় কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেটের হিসাব থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ তোলা হয়েছে। জেমকনের এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে (বিশেষ করে ক্যাসেল কনস্ট্রাকশনে) বড় অঙ্কের লেনদেন হয়েছে, যা স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ওষুধ খাতের অপসোনিন ফার্মা ও বিদ্যুৎ খাতের এনার্জিপ্যাক পাওয়ার থেকেও জেমকনের চা ব্যবসার অ্যাকাউন্টে বিপুল অর্থ এসেছে। যদিও এই অর্থ তাদের ব্যবসার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এভাবে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে অস্বাভাবিক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থের আসল উৎস গোপন করার চেষ্টা হয়।

আরও তদন্তের সুপারিশ

বিএফআইইউর প্রতিবেদনে বলা হয়, জেমকন গ্রুপের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিদেশে অর্জিত সম্পদ ও বিনিয়োগ বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদনবিহীন হওয়ায় সেগুলোকে ‘পাচারকৃত সম্পত্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেমকনের মালিকানাধীন বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ের আর্থিক লেনদেনের উৎস এবং জেমিনি সি ফুডের রহস্যজনক পণ্য ফেরতের বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে।

দুদকের তিন মামলা

বিএফআইইউর গোয়েন্দা প্রতিবেদন সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট ও দুদকে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে তিনটি মামলা করেছে দুদক।

মামলার পর অভিযোগের বিষয়ে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে বিদেশে বিনিয়োগ করা প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

দুদকের মামলায় বলা হয়, কাজী আনিস আহমেদ তার আয়ের উৎসের বাইরে ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে নিজের দখলে রেখেছেন। এ ছাড়া ২০০২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ২০ বছরে তার ২০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৭৯ কোটি ১৪ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে।

গ্রুপের আরেক পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদের বিরুদ্ধে ৩২ কোটি ৬৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে তার ১৪টি ব্যাংক হিসাবে ৭৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে।

কাজী নাবিল আহমেদের নামেও মামলা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় এই মামলাগুলো করা হয়েছে।

দুদকের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘জেমকন গ্রুপের অর্থপাচারের বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। ইতোমধ্যেই তিনটি মামলা হয়েছে এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। তথ্য পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

যা বলছেন আর্থিক খাত-সংশ্লিষ্টরা

বিএফআইইউ প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বলেন, ‘জেমকন গ্রুপের অর্থপাচার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া বিদেশে বিনিয়োগ সংক্রান্ত গোয়েন্দা প্রতিবেদন সিআইডি ও দুদকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থায় পাঠানো হয়েছে। সংস্থাগুলো অধিকতর তদন্ত করে মামলা করে থাকে। এখন তারাই পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। প্রতিবেদন হস্তান্তরের পর আমাদের আর কিছু করার থাকে না। তবে সংস্থাগুলো যদি সাহায্য চায়, সে ক্ষেত্রে বিএফআইইউ তাদের সহায়তা করে থাকে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘বিএফআইইউর কোনো গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিষয়ে আমার মন্তব্য করার সুযোগ নেই। কারণ এটি তাদের নিজস্ব বিষয়। তবে নীতিগতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ নেই। বিনিয়োগ করতে হলে অবশ্যই অনুমোদন নিয়ে করতে হবে। অনুমোদন ছাড়া বিদেশে বিনিয়োগ বা অর্থপাচারের মতো অপরাধ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর আওতাধীন এবং তারাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।’

অভিযোগের বিষয়ে জেমকন গ্রুপের পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদ ও কাজী আনিস আহমেদের সঙ্গে দফায় দফায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কাজী ইনাম আহমেদের ফোন বন্ধ থাকায় হোয়াটসঅ্যাপে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। লিখিত বার্তা পাঠালেও সাড়া মেলেনি। কাজী আনিস আহমেদের দুবাইয়ের নম্বরে কল ও বার্তা দিয়েও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

জেমকনের সিইওর বক্তব্য

এসব বিষয়ে জানতে জেমকন গ্রুপের অফিসে গেলে কাজি ইনাম আহমেদ, কাজি আনিস আহমেদকে পাওয়া যায়নি। দুজনের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। তারা দুজনই দেশের বাইরে রয়েছেন বলে জানান জেমকন গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন খান।

তবে অর্থপাচারের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমার যোগদানের আগের ঘটনা। এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। আইনিভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করা হবে।’