শেখ হাসিনার ভাষণ-ভিডিও প্রচারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা মানার আহ্বান

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
শেখ হাসিনার ভাষণ-ভিডিও প্রচারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা মানার আহ্বান
বাংলাদেশ তথ্য অধিদপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার ভাষণ, বিবৃতি, সাক্ষাৎকার বা অডিও-ভিডিও প্রচারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) দেওয়া নিষেধাজ্ঞা এবং প্রচলিত আইন মেনে চলতে দেশের সব গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।

শুক্রবার (১০ জুলাই) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সব প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যম, পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানানো যাচ্ছে যে, গত ৫ ডিসেম্বর ২০২৪ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো আদালতের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক অপরাধীর কোনো ধরনের বক্তব্য, সাক্ষাৎকার কিংবা অডিও-ভিডিও ভাষণ গণমাধ্যমে প্রচারের ক্ষেত্রে আইনগত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

বিবৃতিতে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এবং আদালতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে শেখ হাসিনার কোনো ভাষণ, বিবৃতি বা বক্তব্য সরাসরি কিংবা ধারণকৃত অবস্থায় টেলিভিশন, বেতার, সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ কোনো গণমাধ্যমে প্রচার বা প্রকাশ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়।

প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, সরকার প্রত্যাশা করে দেশের সব গণমাধ্যম, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং নাগরিকরা প্রচলিত আইন ও আদালতের নির্দেশনার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন এবং তা প্রতিপালনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।

প্রসঙ্গত, গত ৫ ডিসেম্বর ২০২৪ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) শেখ হাসিনার বিদ্বেষমূলক বক্তব্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার, প্রকাশ ও প্রচারণার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। একই সঙ্গে আগে প্রচারিত এ ধরনের বক্তব্য বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে অপসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে বলা হয়েছিল, শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্য ও অডিও বার্তা চলমান তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে এবং ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করার আশঙ্কা রয়েছে। এরপর ট্রাইব্যুনাল গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব বক্তব্যের প্রচার বন্ধে আদেশ দেন।