খিলগাঁওয়ে রান্নাঘরের বারান্দায় মিলল কলেজছাত্রীর মরদেহ, স্বামী গ্রেপ্তার

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে একটি ভাড়া বাসা থেকে সানজিদা আক্তার মারিয়া (১৮) নামের এক কলেজছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার স্বামী সাইফুল ইসলামকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোড়ানের ওই ভাড়া বাসার রান্নাঘরের বারান্দা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মারিয়া লালমাটিয়া মহিলা কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার হাতকান্দা নয়াপাড়া গ্রামের মো. মহসিনের মেয়ে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানান, অচেতন অবস্থায় মারিয়াকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শুরুতে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তী তদন্তে হত্যার আলামত পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, নিহতের ভাই চান মিয়া রাতেই খিলগাঁও থানায় মামলা করেন। এরপর ঘটনাস্থলের তথ্য-উপাত্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে নিহতের স্বামী সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
বাবা-মাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে তদন্তের সূত্রে জানান হারুন অর রশিদ।
নিহতের ভাই চান মিয়া জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে মারিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। পরে তার স্বামীকে ফোন করলে তিনি বাসায় গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন। পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে রান্নাঘরের পাশের বারান্দায় মারিয়াকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে মারিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর গত আট মাস ধরে দক্ষিণ গোড়ানের ওই বাসায় তারা বসবাস করছিলেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি মারিয়া টিউশনি করে সংসারের খরচেও সহায়তা করতেন।
এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।




