জামায়াতের কোনো কর্মীকে পরীক্ষার মাঠে পেলে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে: বিএনপি নেতা মিন্টু

যশোরের মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টুর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে দেওয়া ওই বক্তব্যে তিনি জামায়াতে ইসলামীর কোনো কর্মীকে পরীক্ষার মাঠে পেলে ‘হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে’ বলে হুঁশিয়ারি দেন। তবে বক্তব্যটির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি দাবি করেছেন, সেটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল, বাস্তবে এমন কিছু ঘটেনি এবং পরীক্ষাও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই ১২ নম্বর শ্যামকুড় ইউনিয়ন বিএনপির যৌথ সভায় বক্তব্য দেন আসাদুজ্জামান মিন্টু। সেখানে তিনি বলেন, আমি এখান থেকে হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, আগামীকাল সকাল থেকে ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষা হবে। জামায়াতে ইসলামীর কোনো কর্মীকে যদি উপজেলা মাঠে পাই, হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে।
একই বক্তব্যে তিনি উপস্থিত নারী সমর্থকদের উদ্দেশে আগামী দিনে জামায়াতে ইসলামীর ‘বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা’ সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। এ ছাড়া ধর্মীয় প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন—কেউ নামাজ না পড়লে, কোরআন তিলাওয়াত না করলে কিংবা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ফিতরা আদায় না করলে জান্নাতে যাওয়া সম্ভব কি না। ইসলামের মূল ভিত্তির ওপর আমল করার গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি মন্তব্য করেন, আল্লাহর নির্ধারিত স্তম্ভগুলোর ওপর আমল করলেই কেবল মুক্তি মিলবে। সভাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আসাদুজ্জামান মিন্টু সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভাইরাল হওয়া বক্তব্যটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য। রাজনৈতিক মঞ্চে অনেক সময় এই ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়ে থাকে, এটাকে বাস্তব কোনো নির্দেশনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তিনি দাবি করেন, পরবর্তী সময়ে ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং সেখানে বিএনপি ও জামায়াত—উভয় দলের প্রার্থীরাই অংশ নিয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে একটি মন্তব্য করেছিলেন উল্লেখ করে মিন্টু আরও বলেন, তার ওই মন্তব্যের পাল্টা জবাব হিসেবেই আমি রাজপথ ও রাজনীতির মাঠে এই বক্তব্য দিয়েছিলাম।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মণিরামপুর উপজেলা শাখার আমির ও যশোর জেলা শুরা সদস্য সহকারী অধ্যাপক ফজলুর রহমানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি গাড়িতে আছেন জানিয়ে সংযোগ কেটে দেন। পরবর্তীতে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
.png)






