Advertisement

মৃত স্বামীকে কি স্ত্রী গোসল করাতে পারবেন

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
মৃত স্বামীকে কি স্ত্রী গোসল করাতে পারবেন
প্রতীকী ছবি

পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে চির ও অনড় সত্য মৃত্যু। মৃত্যু অবধারিত। মানুষের বেঁচে থাকাটা অস্বাভাবিক, কিন্তু মৃত্যু খুবই স্বাভাবিক। প্রত্যেক প্রাণীকে মরতে হবে। মৃত্যুর কবল থেকে কেউ বাঁচতে পারবে না। মৃত্যুর কাছে সবাই অক্ষম। মৃত্যুর নির্ধারিত সময় থেকে এক সেকেন্ডও বেশি বেঁচে থাকার ক্ষমতা কারও নেই। আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।’ (সুরা আনয়াম, আয়াত: ১৮৫)

বেলা শেষে সূর্য যেমন বিদায় নেয়, তেমনি মানুষকেও বিদায় নিতে হয়। সূর্যের অস্ত যেমন কেউ ঠেকাতে পারে না, মানুষের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে তাকে কেউ আটকে রাখতে পারবে না। নির্ধারিত সময়ে তার মৃত্যু হবে। আল্লাহ বলেন, ‘কিন্তু তিনি তাদেরকে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দেন। তারপর যখন তাদের নির্দিষ্ট কাল এসে পড়বে, তখন তারা মুহূর্তকালও পেছনে যেতে পারবে না এবং সামনেও যেতে পারবে না।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ৬১)

কেউ চাইলেও মৃত্যুকে পাশ কাটাতে পারবে না। সময় হলে মরতে হবেই। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যেখানেই থাক (একদিন না একদিন) মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই, চাই তোমরা সুরক্ষিত কোনো দুর্গেই থাক না কেন।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৭৮)

দুনিয়াতে আসার ধারাবাহিক পরিক্রমা আছে, প্রথমে দাদা পরে পিতা তারপর নাতি। কিন্তু চলে যাওয়ার ধারাবাহিকতা নেই। মৃত্যুর সময় এলে সব কিছু ছেড়ে চলে যেতে হবে। মৃত্যু, মৃত্যু পরবর্তী জীবন এবং মৃত্যুর পর করণীয় বিষয় নিয়ে মানুষের নানা জিজ্ঞাসা আছে। অনেকে জানতে চান, স্বামী মারা গেলে স্ত্রী তাকে গোসল করাতে পারবে কি না?

ইসলামি শরিয়া মতে, স্বামী মারা গেলে স্ত্রীর জন্য তাকে গোসল করানো জায়েজ আছে। আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর (রা.) বলেন, ‘আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর মৃত্যুর পর তার স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস (রা.) তাকে গোসল দিয়েছেন।’ (মুআত্তা ইমাম মুহাম্মাদ, বর্ণনা: ৩০৩)

সুফিয়ান সাওরি (রহ.) বলেন, ‘স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী তাকে গোসল দিতে পারবে। কেননা সে এখনও স্বামীর ইদ্দতের মধ্যে আছে।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, বর্ণনা: ৬১১৯)

তবে স্ত্রী মারা গেলে স্বামী তাকে গোসল দেবে না। ইমাম শাবি (রহ.) ও সুফিয়ান সাওরি (রহ.) বলেন, ‘(স্ত্রী মারা গেলে) স্বামী তাকে গোসল দেবে না।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, বর্ণনা: ১১০৯২; আলবাহরুর রায়েক, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৭৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৬০)