সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত, বন্যার ঝুঁকিতে ৩১ ইউনিয়ন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত, বন্যার ঝুঁকিতে ৩১ ইউনিয়ন
যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে তীব্র নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এদিকে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ৮৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩১টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

বুধবার (১৫ জুলাই) সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে যমুনার পানি ২০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৩৫ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৯০ মিটার।

অন্যদিকে, কাজীপুরের মেঘাই ঘাট পয়েন্টে পানি ২৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৭২ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেখানে বিপৎসীমা ১৪ দশমিক ৮০ মিটার। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে বলে জানান জাকির হোসেন।

নদীভাঙনের ঝুঁকি বিবেচনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পুলিশের ফেসবুক সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়, চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চরছলিমাবাদ, ওমারপুর ইউনিয়নের ভূতের মোড় এবং খাসপুকুরিয়া ইউনিয়নের শাকপাল এলাকায় নদীভাঙনে আবাদি জমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এসব এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমীন বলেন, যমুনা তীরবর্তী জেলা হওয়ায় জেলায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। জেলার ৮৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩১টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কাজীপুরের ৭টি, সদর উপজেলার ৪টি, বেলকুচির ২টি, চৌহালীর ৫টি, শাহজাদপুরের ৮টি এবং উল্লাপাড়ার ২টি ইউনিয়ন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য বন্যা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় জেলার ৯টি উপজেলায় ৯টি এবং ৮৩টি ইউনিয়নে ৮৩টি বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত জরুরি ওষুধ মজুত রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে মাইকিংসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জনগণকে বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার, খাবার ঢেকে রাখা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।