আবারও বাড়ছে গাইবান্ধার পাঁচ নদীর পানি, ফের বন্যার শঙ্কা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, গাইবান্ধা
আবারও বাড়ছে গাইবান্ধার পাঁচ নদীর পানি, ফের বন্যার শঙ্কা
গাইবান্ধার সবগুলো নদীর পানি বেড়েছে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে উত্তরের জনপদ গাইবান্ধায় আবারও বাড়ছে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, করতোয়া ও ঘাঘট নদীর পানি। পানির চাপে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়েছে ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, জেলার সব নদীর পানি বাড়তে থাকায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ৮ সেন্টিমিটার নিচ ছুঁইছুঁই করছে। ফলে বন্যার আশঙ্কা করছেন চরাঞ্চলের মানুষ।

বুধবার (১৫ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীবেষ্টিত চরগুলো তলিয়ে গেছে। চোখ যতদূর যায়, শুধু পানি আর পানি। গত সপ্তাহের পানি বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে এই প্লাবন দেখা দিল।

জেলার ফুলছড়ি উপজেলার পাটচাষি নজরুল ইসলাম বলেন, এবার পাট চাষ করে চরম বিপদে পড়েছেন। বারবার নদীতে পানি বাড়ায় এবং পাট তলিয়ে যাওয়ায় আজ তার পাটক্ষেতে কোমরপানি।

একই উপজেলার ফুলছড়ি গ্রামের কলিম উদ্দিন বলেন, এবার কয়েক দফা পানি বৃদ্ধির ফলে শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নদীবেষ্টিত এলাকা প্লাবিত হয়েছে। রাখালবুরুজ ইউনিয়নের কফিল উদ্দিন বলেন, করতোয়া নদীর পানি অনবরত বাড়ছে। এতে শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।

সাঘাটা উপজেলার রামনগর গ্রামের মহব্বত আলী বলেন, পানি বৃদ্ধির ফলে ত্রিমোহনী ব্রিজ এলাকায় নদীভাঙন শুরু হয়েছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে ব্রিজটি হুমকির মুখে পড়বে।

একই চিত্র দেখা গেছে তিস্তা নদীবেষ্টিত সুন্দরগঞ্জ ও যমুনা নদীবেষ্টিত সাঘাটা উপজেলায়। তিস্তা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের মোকছেদুর রহমান বলেন, যে কোনো সময় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। নদীর পানি বারবার বাড়তে থাকায় তারা সব সময় উদ্বেগের মধ্যে থাকেন।

সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল কবির বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করে দ্রুত উপজেলা প্রশাসনে জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে বিশেষ বরাদ্দের চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে সহায়তা বিতরণ করা হবে।

বুধবার সকাল ৯টার দিকে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা কাউনিয়া (সুন্দরগঞ্জ) পয়েন্টে পানি ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার মাত্র ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে ৪৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলেও বিপৎসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঘাঘট নদীর পানি ২৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলেও বিপৎসীমার ১২৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় করতোয়া নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলেও বিপৎসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জের কয়েকটি এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। পাউবো ভাঙন প্রতিরক্ষায় জরুরি কাজ করে যাচ্ছে।

অপরদিকে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে গাইবান্ধার ঘাঘট নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গাইবান্ধা শহররক্ষা বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।