জুলাই নিয়ে একমাত্র বিএনপিই প্রতারণা করবে না: ড. নাহরিন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহরিন আই. খান বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের ‘গুন্ডা’ বলা এবং আল বদরের প্রশংসার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী যদি কোনো প্রতিবাদ না করে থাকে, তাহলে জুলাই সনদ বা বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে কথা বলার নৈতিক অধিকার দলটির নেই।
সম্প্রতি এক টক-শোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহরিন বলেন, ‘সংবিধান বাংলাদেশের জন্য। যখন মহান জাতীয় সংসদের কথা বলা হয়, তখন তার পেছনে বাংলাদেশই থাকে। কিন্তু পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের এক নেতা অংশ নেওয়ার সময় মুক্তিবাহিনীকে গুন্ডা বলা হলো, আল বদরের প্রশংসা করা হলো। আমি জানতে চাই, এর বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ কি আমরা দেখেছি?’
তিনি বলেন, ‘অনেকে হয়তো বলবেন, জামায়াত ও ছাত্রশিবির আলাদা। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে, ১৯৭১ সালে যাদের মাধ্যমে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে, সেই মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হলো, অথচ জামায়াত এর প্রতিবাদ করল না। যদি সত্যিই কোনো প্রতিবাদ না করে থাকে, তাহলে জুলাই সনদ বা বাংলাদেশের স্বার্থে কোনো বিষয়ে কথা বলার নৈতিক এখতিয়ার তাদের নেই।’
তিনি বলেন, ‘সংস্কার নাকি সংশোধন এটা নিয়েই তো বিতর্ক? আমি একটা কথা বলতে চাই, বিএনপি এই মুহূর্তে একমাত্র দল যে দলটি জুলাই নিয়ে প্রতারণা করবে না। হ্যাঁ এটা করা বিএনপির পক্ষে কখনোই সম্ভব না।’
বিএনপির অবস্থান প্রসঙ্গে নাহরিন আই. খান বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে দলটির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকলেও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেই তারা প্রচার চালিয়েছে। তার ভাষ্য, বিএনপি শুরু থেকেই তাদের অবস্থানে অটল ছিল।
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের আগের রাত পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। সেই পরিস্থিতিতে নানা ধরনের প্রতারণা ও বিভ্রান্তির ঘটনাও আমরা দেখেছি।’
জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। নাহরিন বলেন, ‘সংসদের প্রথম দিন তারা শপথ নেবেন না বলেছিল। কিন্তু এক ঘণ্টার মধ্যেই সেই সিদ্ধান্ত বদলে যায়। যে দলের সিদ্ধান্ত ঘণ্টায় ঘণ্টায় বদলে যায়, তাদের বর্তমান ওয়াকআউটও স্থায়ী হবে বলে আমি মনে করি না।’
সংবিধান সংস্কার ও সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংস্কার মানেই পুরোনো সবকিছু ফেলে নতুন করে শুরু করা নয়। বিদ্যমান ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করা বা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনাও সংস্কার। তাই সংশোধনের মাধ্যমেও সংস্কার সম্ভব। সংস্কার ও সংশোধনের মধ্যে আমি বড় কোনো পার্থক্য দেখি না।’





