আওয়ামী লীগ শাসনামলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে: সরোয়ার তুষার

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
আওয়ামী লীগ শাসনামলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে: সরোয়ার তুষার
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। ছবি: সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তিনি বলেন, উপনিবেশিক শাসনামলের সম্পদ লুটের সঙ্গে তুলনা করলেও এ সময়ে অর্থপাচারের পরিমাণ অনেক বেশি।

সোমবার (১৩ জুলাই) একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সারোয়ার তুষার দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাই অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট তাদের সহযোগিতা করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের একটাই চাওয়া, পাচার হওয়া অর্থ যেন দেশে ফিরিয়ে আনা যায়। কারণ বর্তমানে দেশ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। সরকারও নানা ধরনের চাপ মোকাবিলা করছে।’

পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যদি এই অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা যায়, তাহলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য অবশ্যই ইতিবাচক হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর বিদেশি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সেই উদ্যোগ প্রত্যাশিত সফলতা পায়নি।’

এনসিপির এই নেতা বলেন, লুট হওয়া অর্থ দেশে ফেরাতে বর্তমান সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সরকারের উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমান অর্থমন্ত্রী পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে আমার মনে হয়, বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার করা যত সহজ, তা ফেরত আনা ততটাই কঠিন।’

সারোয়ার তুষারের ভাষ্য, অনেক ক্ষেত্রে পাচার হওয়া অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করা হয় বা প্রকৃত মালিকের নাম গোপন রেখে ভিন্ন পরিচয়ে সংরক্ষণ করা হয়। ফলে পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়ে।

তবে সরকারের সদিচ্ছা থাকলে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।