ইংল্যান্ড না আর্জেন্টিনা, মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে কারা?

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা খুব বেশি ম্যাচ খেলেনি। দীর্ঘ ৭৫ বছরে দল দুটি মুখোমুখি হয়েছে মাত্র ১৪ বার। সেই লড়াইয়ের সামগ্রিক পরিসংখ্যানে এগিয়ে ইংল্যান্ড। তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার স্মৃতিই তুলনামূলক সুখের।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত ১টায় আটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই দল। বিশ্বকাপে এটি তাদের ষষ্ঠ দেখা, তবে সেমিফাইনালে প্রথম।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আগের ১৪ ম্যাচের প্রচলিত হিসাবে ইংল্যান্ডের জয় ৬টি, আর্জেন্টিনার ৩টি এবং ড্র ৫টি। দুই দল মিলে করেছে ৩৬ গোল। ইংল্যান্ডের গোল ২১টি, আর্জেন্টিনার ১৫টি।
এই হিসাবের ক্ষেত্রে অবশ্য একটি ছোট ব্যাখ্যা রয়েছে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের ম্যাচটি অতিরিক্ত সময় শেষে ২-২ গোলে ড্র ছিল। টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার জয়কে আলাদা জয় হিসেবে গণনা করলে হিসাব দাঁড়ায় ইংল্যান্ড ৬, আর্জেন্টিনা ৩ ও ড্র ৫। শুধু মূল ম্যাচের ফল ধরলে আর্জেন্টিনার জয় মাত্র ২টি এবং ড্র ৬টি।
বিশ্বকাপে আগের পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে জিতেছে ইংল্যান্ড। আর্জেন্টিনার জয় একটি এবং অন্য ম্যাচটি ড্র হলেও টাইব্রেকারে শেষ হাসি ছিল আলবিসেলেস্তেদের।
- ১৯৬২, গ্রুপ পর্ব: ইংল্যান্ড ৩-১ আর্জেন্টিনা
- ১৯৬৬, কোয়ার্টার ফাইনাল: ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা
- ১৯৮৬, কোয়ার্টার ফাইনাল: আর্জেন্টিনা ২-১ ইংল্যান্ড
- ১৯৯৮, শেষ ষোলো: আর্জেন্টিনা ২-২ ইংল্যান্ড, টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার জয়
- ২০০২, গ্রুপ পর্ব: ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপের প্রথম দুই দেখাতেই জিতেছিল ইংল্যান্ড। ১৯৬২ সালে গ্রুপ পর্বে ৩-১ গোলের জয়ের চার বছর পর নিজেদের মাঠের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারায় তারা।
আর্জেন্টিনার একমাত্র সরাসরি জয়টি আসে ১৯৮৬ সালে। দিয়েগো ম্যারাডোনার দুই গোলে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে পরে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা।
১৯৯৮ সালের শেষ ষোলোয় ২-২ সমতার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জেতে আর্জেন্টিনা। ফলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আগের তিন সাক্ষাতের দুটিতে আর্জেন্টিনা এগিয়েছে, ইংল্যান্ড এগিয়েছে একবার।
ইংল্যান্ড অবশ্য সর্বশেষ বিশ্বকাপ দেখায় প্রতিশোধ নিয়েছিল। ২০০২ সালের গ্রুপ পর্বে ডেভিড বেকহামের পেনাল্টিতে ১-০ গোলে জেতে তারা। সেই হার শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সব ধরনের ম্যাচ মিলিয়ে দল দুটি সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ২০০৫ সালের নভেম্বরে। জেনেভার সেই প্রীতি ম্যাচে শেষ পাঁচ মিনিটের আগে ২-১ গোলে পিছিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। মাইকেল ওয়েনের দুটি দেরিতে করা হেডে শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় ইংলিশরা।
মুখোমুখি এই দ্বৈরথে সর্বোচ্চ তিন গোল ওয়েনের। দুটি করে গোল করেছেন দিয়েগো ম্যারাডোনা, মারিও কেম্পেস, গ্যারি লিনেকার ও ডেভিড জনসন।
২১ বছর পর নতুন অধ্যায় লিখতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। সামগ্রিক হিসাবে ইংল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপের নকআউট ইতিহাস আর্জেন্টিনার পক্ষে। এবার জয়ী দল পাবে স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট।




