তিন ‘অভিশাপে’ শিরোপার স্বপ্ন দেখছে স্পেন

বিশ্বকাপ জিততে শেষ পর্যন্ত মাঠের খেলাই আসল, ইতিহাস কিংবা পরিসংখ্যান নয়। তবে ফাইনালের আগে তিনটি অটুট ধারা স্পেনকে বাড়তি আশা দেখাতে পারে। এমন তিন ‘অভিশাপ’, যার একটি ইতিমধ্যে ফ্রান্সকে বিদায় নিতে দেখেছে। বাকি দুটি অপেক্ষা করছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের জন্য।
ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০১০ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে স্পেন। শিরোপার শেষ লড়াইয়ে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ড। যে দলই উঠুক, তাদের সামনে থাকবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের একটি করে অটুট ধারা ভাঙার চ্যালেঞ্জ।
ব্যালন ডি’অর জয়ীর ‘অভিশাপ’
১৯৫৬ সালে ব্যালন ডি’অর চালু হওয়ার পর বর্তমান পুরস্কারজয়ীর জাতীয় দল কখনো বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। এখানে পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপ জয়ের পর একই বছরে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন একাধিক ফুটবলার। কিন্তু পুরস্কারটির বর্তমান ধারক হিসেবে বিশ্বকাপে এসে কেউ শিরোপা নিয়ে ফিরতে পারেননি।
২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলে। তার ফ্রান্স এবার শিরোপার অন্যতম বড় দাবিদার ছিল। কিন্তু সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে সেই ধারাটি আরেকবার অক্ষুণ্ন রেখেছে ফরাসিরা।
শীর্ষ র্যাঙ্কিং নিয়ে আর্জেন্টিনার পরীক্ষা
দ্বিতীয় অটুট ধারাটি আর্জেন্টিনার সঙ্গে জড়িত। ফিফা র্যাঙ্কিং চালু হওয়ার পর বিশ্বকাপ শুরুর সময় তালিকার এক নম্বরে থাকা কোনো দল শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি।
বিশ্বকাপ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে প্রকাশিত ১১ জুনের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান ফিরে পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। প্রস্তুতি ম্যাচে আইসল্যান্ড ও হন্ডুরাসকে হারিয়ে ফ্রান্সকে সরিয়ে এক নম্বরে উঠেছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ব্রাজিল, জার্মানি, স্পেন ও ফ্রান্সের মতো দল অতীতে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপে গেলেও শিরোপা জিততে পারেনি। আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠলে লিওনেল মেসিদের তাই এই ইতিহাসও বদলাতে হবে।
২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের সময় অবশ্য আর্জেন্টিনা র্যাঙ্কিংয়ের তিন নম্বরে ছিল। সেবার এক নম্বরে থাকা ব্রাজিল বিদায় নিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে।
টুখেলের সামনে বিদেশি কোচের ইতিহাস
ইংল্যান্ড ফাইনালে উঠলে তাদের সামনে থাকবে তৃতীয় ‘অভিশাপ’। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর বিদেশি কোচের অধীনে কোনো দেশ পুরুষদের বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। প্রতিবারই চ্যাম্পিয়ন দলের কোচ ছিলেন সেই দেশের নাগরিক।
ইংল্যান্ডের বর্তমান কোচ টমাস টুখেল জার্মান নাগরিক। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের দায়িত্ব নেওয়া টুখেল দলটিকে ৬০ বছর পর বিশ্বকাপ ফাইনালে তোলার খুব কাছে নিয়ে গেছেন। তবে শিরোপা জিততে হলে তাকে এমন ইতিহাস তৈরি করতে হবে, যা বিশ্বকাপের ৯৬ বছরে আর কোনো বিদেশি কোচ পারেননি।
স্পেনের ক্ষেত্রে এই তিন ধারার কোনোটি প্রযোজ্য নয়। তারা বিশ্বকাপে এসেছিল র্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বরে, তাদের কোচ দে লা ফুয়েন্তে স্প্যানিশ এবং বর্তমান ব্যালন ডি’অরজয়ীও স্পেনের কেউ নন।
তবে ইতিহাস নিজে ম্যাচ জেতায় না। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের যেকোনো একটি দল ফাইনালে উঠেই অন্তত একটি পুরোনো ধারা ভাঙার সুযোগ পাবে। আর স্পেনের আশা, সেই ইতিহাস এবারও অক্ষুণ্ন থাকবে।




