আলাদা প্রবেশপথ, ১৬০০ পুলিশ: ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
আলাদা প্রবেশপথ, ১৬০০ পুলিশ: ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা
ম্যাচ ঘিরে পুরো আটলান্টা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লড়াই, সঙ্গে বহু পুরোনো ফুটবলীয় ও রাজনৈতিক বৈরিতা। ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল ঘিরে তাই কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না আটলান্টা প্রশাসন। ম্যাচের নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হচ্ছে ১৬০০ পুলিশ সদস্য। দুই দলের সমর্থকদের জন্য রাখা হচ্ছে আলাদা প্রবেশপথও।

বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ১টায় আটলান্টা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি সামনে রেখে পুরো শহরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আটলান্টা পুলিশ বিভাগ।

আর্জেন্টিনার নিরাপত্তামন্ত্রী আলেহান্দ্রা মন্তেওলিভা জানিয়েছেন, এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমর্থকদের আলাদা প্রবেশপথ দিয়ে স্টেডিয়ামে নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘ম্যাচের নিরাপত্তায় ১৬০০ কর্মকর্তা থাকবেন। আমরা চাই, উদ্‌যাপনটি শান্তিপূর্ণ হোক।’

তবে স্টেডিয়ামের ভেতরে দুই দলের সমর্থকদের পুরোপুরি আলাদা করে বসানো সম্ভব হবে না। ফিফার টিকিট বিক্রির পদ্ধতির কারণে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে থাকতে পারেন। এ কারণেই প্রবেশপথ থেকে শুরু করে স্টেডিয়ামের আশপাশে বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আটলান্টা পুলিশ জানিয়েছে, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত সদস্য ও নিরাপত্তাসামগ্রী মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তা পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হবে।

নিরাপত্তা পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইসহ অন্য সংস্থাগুলোর সঙ্গেও সমন্বয় করছে স্থানীয় পুলিশ। তবে কৌশলগত কারণে পুরো পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।

স্টেডিয়ামে রাজনৈতিক কিংবা বর্ণবাদী উসকানিমূলক বার্তা বহনকারী পতাকা, ব্যানার ও পোস্টার নেওয়া যাবে না। আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা মালভিনাস বা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব দাবি করে এমন পতাকা কিংবা ব্যানারও সঙ্গে নিতে পারবেন না।

ফুটবল মাঠে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার বৈরিতার ইতিহাস দীর্ঘ। বিশ্বকাপে এর আগে পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে দল দুটি। ১৯৬৬ সালের আন্তোনিও রাত্তিন বিতর্ক, ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’, ১৯৯৮ সালে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড এবং ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের প্রতিশোধ, প্রতিটি ম্যাচই এই দ্বৈরথে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড বা মালভিনাস যুদ্ধের পর দুই দেশের রাজনৈতিক বিরোধও ফুটবলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে মিশে যায়। যদিও দুই দলের কোচ ও খেলোয়াড়েরা এবার বারবার ম্যাচটিকে কেবল ফুটবলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইংল্যান্ডের ফুটবল সমর্থক সংস্থাও ভক্তদের দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে ইংলিশ সমর্থকদের আচরণের প্রশংসা করে সংস্থাটি বলেছে, পুরোনো নেতিবাচক পরিচয় যেন আবার ফিরে না আসে।

মাঠের ভেতরে একটি ফাইনালের টিকিট নিয়ে লড়বে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। আর বাইরে ম্যাচটি নির্বিঘ্ন রাখতে আটলান্টাজুড়ে চলবে আরেকটি বড় পরীক্ষা।