ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘সৌভাগ্যের’ নীল জার্সিতে আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে পরিচিত পোশাকগুলোর একটি। কিন্তু ইংল্যান্ড সামনে এলেই যেন অন্য এক জার্সির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে তাদের ইতিহাস। সেই গাঢ় নীল জার্সি পরেই এবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নামবেন লিওনেল মেসিরা।
বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ১টায় আটলান্টায় ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচটিতে নিজেদের পরিচিত আকাশি-সাদা জার্সির পরিবর্তে গাঢ় নীল বিকল্প জার্সি পরবে আর্জেন্টিনা।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই রঙের জার্সিতে আর্জেন্টিনার রয়েছে স্মরণীয় দুটি বিশ্বকাপ জয়। তাই জার্সিটি অনেক আর্জেন্টাইন সমর্থকের কাছে এখন কেবল বিকল্প পোশাক নয়, সৌভাগ্যের প্রতীকও।
১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নীল জার্সি পরেই ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচেই দিয়েগো ম্যারাডোনা করেছিলেন তার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল। এর কয়েক মিনিট পর পাঁচ ইংলিশ ফুটবলারকে কাটিয়ে করা তাঁর দ্বিতীয় গোলটি পরে ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
১২ বছর পর ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতেও নীল জার্সি পরে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ২-২ গোলে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে জয় পেয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা।

সেই ইতিহাস সামনে রেখে এবারও নীল জার্সিতে নামার সিদ্ধান্তটি বুঝতে পারছেন ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল। তার জায়গায় থাকলে তিনিও একই সিদ্ধান্ত নিতেন বলে জানিয়েছেন জার্মান এই কোচ।
টুখেল বলেন, ‘এর সঙ্গে কোনো সংস্কার জড়িয়ে থাকলে আমিও একই কাজ করতাম। তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। অবশ্য এর আগে বিষয়টি আমার জানা ছিল না।’
নিজেরও কিছু গোপন সংস্কার ও সৌভাগ্যের প্রতীক রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন ইংল্যান্ড কোচ। তবে সেগুলো কী, তা প্রকাশ করেননি। তার যুক্তি, সংস্কারের কথা অন্য কাউকে বলে দিলে সেটি আর কাজ না-ও করতে পারে।
টুখেল বলেন, ‘বড় ম্যাচের দিনে কিছু নির্দিষ্ট অভ্যাস খেলোয়াড় ও কোচদের শান্ত থাকতে সাহায্য করে। উচ্চপর্যায়ের খেলাধুলায় এমন সংস্কার কিংবা সৌভাগ্যের প্রতীক থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়।’
আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি অবশ্য জার্সিটির ইতিহাস নিয়ে খুব বেশি মাতামাতি করতে চাননি। নীল জার্সি পরার অনুরোধ তিনি করেননি জানিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘আমি জানি না কে এটি চেয়েছে। সম্ভবত এটি একটি ঐতিহ্য।’
আর্জেন্টিনার এবারের গাঢ় নীল জার্সির নকশাতেও রয়েছে দেশটির সংস্কৃতির ছাপ। কালো ভিত্তির ওপর নীল রঙের ঘূর্ণায়মান নকশা নেওয়া হয়েছে বুয়েনস আইরেসের ঐতিহ্যবাহী ‘ফিলেতেয়াদো’ অলংকরণশিল্প থেকে। এই শিল্পরীতিকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেসকো।
এটি কেবল ঐতিহ্য, নাকি সত্যিই সৌভাগ্যের জার্সি, উত্তর পাওয়া যাবে মাঠেই। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অতীতের দুই স্মরণীয় জয়ের পুনরাবৃত্তি যে মেসিরা চাইবেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।





