কিডনি ক্যানসারের ৭ লক্ষণ, অবহেলা করলে হতে পারে মারাত্মক বিপদ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
কিডনি ক্যানসারের ৭ লক্ষণ, অবহেলা করলে হতে পারে মারাত্মক বিপদ
kidney

কিডনি ক্যানসার শুরুতে অনেক সময় নীরবে আমাদের শরীরেই বেড়ে ওঠে। তাই প্রথম দিকের লক্ষণগুলোকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে গেলে রোগটি দেরিতে ধরা পড়তে পারে। চিকিৎসকদের মতে, প্রস্রাবে রক্ত, দীর্ঘদিন কোমরের এক পাশে ব্যথা, অকারণে ওজন কমে যাওয়া বা দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির মতো কিছু লক্ষণ কিডনি ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে। তাই এসব উপসর্গ দীর্ঘদিন থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কিডনি আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। এটি রক্ত থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত পানি ছেঁকে প্রস্রাব তৈরি করে, শরীরের লবণ ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। কিন্তু এই অঙ্গেই যখন ক্যানসার তৈরি হয়, তখন শুরুতে অনেক ক্ষেত্রেই তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে রোগটি অনেক সময় দেরিতে ধরা পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনি ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা অনেক বেশি সফল হতে পারে। তাই শরীরের কিছু পরিবর্তন বা অস্বাভাবিক লক্ষণ দীর্ঘদিন ধরে থাকলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

প্রস্রাবে রক্ত দেখা যাওয়া: কিডনি ক্যানসারের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণগুলোর একটি হলো প্রস্রাবে রক্ত আসা। কখনও প্রস্রাব গোলাপি, লাল বা বাদামি রঙের হতে পারে। আবার অনেক সময় রক্তের পরিমাণ এত কম থাকে যে তা খালি চোখে বোঝা যায় না।

অবশ্য প্রস্রাবে রক্ত মানেই ক্যানসার নয়। কিডনিতে পাথর, সংক্রমণ বা অন্য সমস্যার কারণেও এমন হতে পারে। তবে এটি একবার হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কোমরের এক পাশে দীর্ঘদিন ব্যথা: কোমরের এক পাশে বা পাঁজরের নিচে দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা থাকলে সেটিও সতর্ক হওয়ার কারণ হতে পারে। এই ব্যথা সাধারণ পেশির ব্যথার মতো না হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে থাকতে পারে এবং ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।

কোমর বা পেটে গাঁট অনুভব হওয়া: কিছু ক্ষেত্রে কিডনির কাছে বা পেটের এক পাশে শক্ত গাঁট বা ফোলা অনুভূত হতে পারে। যদিও এটি সাধারণত রোগের পরবর্তী পর্যায়ে দেখা যায়, তবু এমন কিছু টের পেলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

অকারণে ওজন কমে যাওয়া: খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামে কোনো পরিবর্তন না এনেও যদি দ্রুত ওজন কমতে থাকে, তাহলে সেটি কিডনি ক্যানসারসহ বিভিন্ন গুরুতর রোগের লক্ষণ হতে পারে।

দীর্ঘদিন জ্বর থাকা: সংক্রমণ ছাড়াই বারবার জ্বর আসা বা দীর্ঘদিন হালকা জ্বর থাকা কিডনি ক্যানসারের একটি সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে। এমন হলে কারণ খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

সব সময় ক্লান্ত লাগা: পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও যদি সব সময় দুর্বল লাগে বা ক্লান্তি না কাটে, তাহলে তা রক্তশূন্যতা বা অন্য শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। কিডনি ক্যানসারের ক্ষেত্রেও এমনটি দেখা যেতে পারে।

ক্ষুধামন্দা: হঠাৎ করে খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া, অল্প খেলেই পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি বা দীর্ঘদিন ক্ষুধামন্দা থাকলেও চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কিডনি ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। যাদের -

  • বয়স ৫০ বছরের বেশি
  • ধূমপানের অভ্যাস
  • স্থূলতা
  • উচ্চ রক্তচাপ
  • পরিবারে কিডনি ক্যানসারের ইতিহাস
  • দীর্ঘদিন কিডনির রোগে ভোগা
  • কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শে নিয়মিত থাকা

ঝুঁকি কমাতে কী করবেন?

যদিও সব ক্ষেত্রে কিডনি ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

  • ধূমপান ত্যাগ করুন।
  • স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
  • রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অপ্রয়োজনীয় ব্যথানাশক ওষুধ দীর্ঘদিন খাবেন না।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

প্রস্রাবে রক্ত, দীর্ঘদিন কোমরে ব্যথা, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, বারবার জ্বর বা অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো লক্ষণ কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে চিকিৎসক প্রস্রাব পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা, আলট্রাসনোগ্রাম, সিটি স্ক্যান বা অন্যান্য পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন।

কিডনি ক্যানসারের লক্ষণ শুরুতে অনেক সময় খুব স্পষ্ট হয় না। তাই শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। প্রস্রাবে রক্ত, দীর্ঘদিনের কোমরব্যথা বা অকারণে ওজন কমার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। রোগ যত আগে শনাক্ত হবে, সফল চিকিৎসার সম্ভাবনাও তত বেশি থাকবে।

সূত্র:নিউজ বাংলা ১৮