চাঁদপুরে ডাকাতির সময় গৃহবধূকে হত্যা, আরেক নারী আহত

এশিয়া পোস্ট নিউজ, চাঁদপুর
চাঁদপুরে ডাকাতির সময় গৃহবধূকে হত্যা, আরেক নারী আহত
হত্যার শিকার গৃহবধূর স্বজনদের আহাজারি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় শ্বাসরোধ করে রিগান আক্তার মিম নামে গৃহবধূকে হত্যা করেছে ডাকাতদল। গৃহবধূর ছোট জা সুমাইয়া আক্তার ডাকাতের হামালায় আহত হয়েছেন। ডাকাত দল ঘর থেকে স্বণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে আড়াইটার দিকে শাহরাস্তি পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বাত্তলা গ্রামের বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিগান আক্তার মিম ওই গ্রামের মৃত সেলিম বেপারীর পুত্রবধূ। তার আড়াই বছর বয়সি এক কন্যা ও চার মাস বয়সি এক ছেলেসন্তান রয়েছে। গৃহবধূর স্বামী রনি ঢাকায় চাকরি করেন। ঘটনার সময় বাড়িতে দুই গৃহবধূ ও তাদের দাদা শ্বশুর সদস্য নুরুল ইসলাম এবং তিনটি শিশু ছিল।

প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন জানান, চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ঘরের ভেতর ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে জানালায় ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া পাননি। তখন ডাকাতির সন্দেহ হলে কয়েকজন প্রতিবেশীকে খবর দেন। পরে মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, স্থানীয়রা বাড়িটি ঘিরে পূর্ব পাশের একটি জানালার কপাট খোলা দেখতে পান। ভেতরে তাকিয়ে মিমকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। দাদা শ্বশুর গেট খুলে দিলে তারা ঘরে প্রবেশ করেন। ছোট গৃহবধূকে বাধা অবস্থায় কান্নারত দেখতে পান। অপর কক্ষে গিয়ে মিমকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল। স্থানীয়রা ওড়না খুলে তাকে ডাক দিলেও কোনো সাড়া মেলেনি। স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে নিহতের বাবা-মা, ভাই-বোন ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। গৃহবধূর দুই শিশু সন্তানকে বুকে জড়িয়ে তাদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

নিহত গৃহবধূর দাদা শ্বশুর নুরুল ইসলাম জানান, রাতে তিনি বাড়ির লোহার গেটে তালা লাগিয়ে চাবি টেবিলের ওপর রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। চিৎকার শুনে জেগে উঠে গেট খুলতে গিয়ে দেখেন গেটটি ভেতর থেকে আটকানো থাকলেও তালাটি নেই। পরে বাড়ির বাইরে অক্ষত অবস্থায় তালাটি পাওয়া যায়।

আহত গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার জানান, রাত ১২টার দিকে তিন মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে মুখ ঢেকে থাকা দুই ব্যক্তি তাকে ও তার শিশুকে ছুরির মুখে জিম্মি করে ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র দিতে বলে। তিনি আলমারিতে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে যেতে বললে ডাকাতরা তার ওড়না দিয়ে হাত বেঁধে ফেলে এবং হাতুড়ি দিয়ে মাথায় দুই দফা আঘাত করে। পরে তার কানের দুল, আলমারি থেকে আরেক জোড়া দুল ও একটি আংটি নিয়ে যায়। একপর্যায়ে তারা পাশের কক্ষে প্রবেশ করে।

তিনি জানান, পাশের কক্ষ থেকে বড় জায়ের কান্নার শব্দ শুনতে পেলেও বাঁধা অবস্থায় তাকে সাহায্য করতে পারেননি।

শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জেলার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) মো. আব্দুল হাই চৌধুরী বলেন, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।