মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে

পাবনার সুজানগরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে পৌরসভার মথুরাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন সুজানগর থানার ওসি মো. মোজাফফর হোসেন ও কনস্টেবল সবুজ হোসেন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৫ জুলাই) মধ্যরাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনার সুযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সুজানগর উপজেলা শাখাসহ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নাশকতার একটি পরিকল্পনা ছিল বলে গোপন সূত্রে পুলিশ জানতে পারে।
এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুটি গাড়িতে পুলিশের টহল টিম মথুরাপুর এলাকায় গিয়ে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করে। এ সময় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ওই দলের কয়েকশ কর্মী-সমর্থক পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে সবাইকে ছিনিয়ে নেন। দেশীয় অস্ত্র ও বিভিন্ন ধরনের লাঠিসোঁটা দিয়ে এই হামলা করা হয়।
এ সময় পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং দুজন পুলিশ সদস্য আহত হন। আওয়ামী লীগের সুজানগর উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুল ওহাবের উপস্থিতিতে এ হামলা চালানো হয় বলে দাবি পুলিশের। আহতরা স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানায় পুলিশ।
তবে স্থানীয়দের দাবি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাবকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে এলাকায় এসে পুলিশ নিরীহ মানুষকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছিল। প্রায়ই নিরীহ মানুষ অন্যায়ভাবে আটকের শিকার হওয়ার কারণে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে এমন পথ বেছে নেয়।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সুজানগর উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুল ওহাব পুলিশের দাবি সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি জেলার বাইরে থাকি। পুলিশের তাণ্ডবে এলাকাতে যেতে পারি না। সেখানে আমি থাকলাম কীভাবে? যতটুকু জেনেছি, রাতে খেলা দেখার পর ওই এলাকায় ছেলেপেলেরা খিচুড়ি খাওয়া-দাওয়া করছিল। এ সময় পুলিশ গিয়ে ১০-১৫ জনকে আটক করে। তখন ওই এলাকার মানুষ, এমনকি নারীরাও নাকি বেরিয়ে এসে আটকদের ছাড়িয়ে নেয়। এ সময় নাকি পুলিশের গাড়িতে বাড়ি দিয়েছে, দুজন আহত হয়েছে বলে শুনলাম।’
এ বিষয়ে পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, হামলা চালিয়ে ওসিসহ দুজনকে আহত করা হয়েছে। তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ঘটনায় দোষীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।





