সাতক্ষীরার ভেটখালী বিলে জলাবদ্ধতায় কৃষকের মাথায় হাত

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী বিলে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বিলে পানি জমে থাকায় চলতি মৌসুমে ধানের চারা রোপণ করতে না পেরে তারা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের প্রধান পথ ‘হিমখালী খাল’ ও বিকল্প নিষ্কাশন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে দখলের কারণে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিবছর প্রায় দুই শতাধিক বিঘা ধান ও সবজির জমি পানিতে তলিয়ে থাকছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী বাজার, ভেটখালী বিল ও তারানীপুর এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য হিমখালী খালসহ বিকল্প ব্যবস্থা থাকলেও দখলের কারণে পানি স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারছে না। এতে কৃষিজমি, বসতভিটা, পুকুর, গাছপালা ও গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, হিমখালী খালটি দীর্ঘদিন ধরে শতাধিক ব্যক্তি দখল করে রেখেছেন। এ ছাড়া ভেটখালী বিলের বিকল্প পানি নিষ্কাশনের পথও কয়েকজন ব্যক্তি দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে ভেটখালী গ্রামের সনদ যোদ্দার, মন্টু যোদ্দার, মিন্টু যোদ্দার, নিরাপদ যোদ্দার, কিশোরী যোদ্দার ও জয়ন্ত বাছারসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন এলাকাবাসী।
ভেটখালী কলোনিপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় তাদের কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মুত্তালিব হোসেন বলেন, হিমখালী খাল ও বিকল্প পানি নিষ্কাশনের পথ দখল হয়ে থাকায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে আমরা ক্ষতির মুখে পড়ি। এ বছর ধানের বীজতলা তৈরি ও চারা রোপণ করতে পারছি না, বসতভিটাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হব।
স্থানীয় গৃহিণী নুরজাহান খাতুন বলেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই আমাদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। ধানের জমি, বাড়ির উঠান, কাঁচা ঘরবাড়ি ও সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। খাল ও পানি নিষ্কাশনের পথ দখলমুক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।
এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে কৈখালী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
.png)






