বগুড়াকে বিভাগ করতে চার জেলার এমপি-মন্ত্রীর পূর্ণ সমর্থন: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বগুড়াকে স্বতন্ত্র বিভাগ করার দাবি এবার বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি বলেছেন, প্রতিবেশী চার জেলা জয়পুরহাট, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধার সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা বগুড়াকে বিভাগ করার প্রস্তাবে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।
রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় বগুড়া জেলা প্রশাসন অডিটোরিয়ামে ‘বগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সভায় বগুড়া বিভাগের দাবির পক্ষে চার জেলার জনপ্রতিনিধিদের সমর্থনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এ সমর্থনের কারণে বগুড়াকে বিভাগ করার বিষয়টি বাস্তবায়ন করা এখন আগের চেয়ে সহজ হবে।
মীর শাহে আলম বলেন, পাঁচ জেলার সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত সভায় গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জের সব সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছেন, যাতে বগুড়ায় নতুন একটি বিভাগ হয়। চার জেলা নিয়ে যদি সিলেট, বরিশাল বা ফরিদপুরের মতো বিভাগ হতে পারে, তাহলে উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক হাব বগুড়া অবশ্যই বিভাগ হতে পারে।
বিভাগ বাস্তবায়নের বিষয়ে সভায় উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিবেশী চার জেলার জনপ্রতিনিধিরা কোনো আপত্তি না করে স্বেচ্ছায় সমর্থন দেওয়ায় বগুড়াকে বিভাগ করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা নেই।
দীর্ঘদিন ধরে বগুড়াকে বিভাগ করার দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও গাইবান্ধা নিয়ে পৃথক বিভাগ গঠনের দাবির পেছনে রয়েছে এ অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক গুরুত্ব, জনসংখ্যা ও যোগাযোগব্যবস্থার বাস্তবতা। দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, শিল্পায়নের ধীরগতি ও কর্মসংস্থানের সংকট কাটিয়ে উত্তরাঞ্চলের এই পাঁচ জেলার সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরির প্রয়োজনীয়তাও সভায় তুলে ধরা হয়।
সভায় বগুড়ার উন্নয়নে একাধিক বড় প্রকল্পের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দ্বিতীয় যমুনা সেতু গাবতলী, সারিয়াকান্দি ও মাদারগঞ্জ হয়ে টাঙ্গাইলের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সেতু বাস্তবায়িত হলে বগুড়া ও ঢাকার মধ্যে সময় ও অর্থনৈতিক দূরত্ব কমবে।
বগুড়া শহরের যানজট নিরসনে রেললাইন ঘিরে পৃথক অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। শহরের ওপর দিয়ে সড়ক চলাচল এবং নিচ দিয়ে ট্রেন চলাচলের জন্য ওভারপাস ও রেলপথ নির্মাণের নকশা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও সভায় বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, বগুড়া জেলার থানাগুলোর জন্য অন্তত ২০টি নতুন পুলিশের গাড়ি সরবরাহের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। গাবতলী ও আদমদীঘি থানার পাশাপাশি জেলার অন্য ১০টি থানাকেও মডেল থানায় রূপান্তরের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডিএ) খসড়া আইন মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে বলে জানান মীর শাহে আলম। বগুড়া সিটি করপোরেশনকে মেট্রোপলিটন পুলিশিং ব্যবস্থার আওতায় আনার প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে।
পরিকল্পিত নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়নের জন্য বগুড়ায় একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
উন্নয়নকাজে নতুন ঠিকাদারদের সুযোগ তৈরি করতে ২০০৮ সালের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর) সংশোধন করা হচ্ছে বলেও সভায় জানানো হয়। সংশোধিত বিধিমালা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জারি হতে পারে। নতুন বিধিমালা জারি না হওয়া পর্যন্ত উন্নয়নকাজের টেন্ডার না দিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী।
বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ.ন.ম. বজলুর রশীদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ উজ্জ্বল হোসাইনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
.png)






