লক্ষ্মীপুরে মাছের ঘের কেটে কৃষকের জমি দখলের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে মাছের ঘের কেটে সিরাজুল ইসলাম নামে এক কৃষকের প্রায় ছয় শতাংশ জমি দখল করার অভিযোগ উঠেছে আমেরিকা প্রবাসী হাফিজ তোহার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্ত হাফিজ সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের শ্যামগঞ্জ গ্রামের শফি উল্যার ছেলে। ভুক্তভোগী সিরাজ লামচর ইউনিয়নের উত্তর কালিাকাপুর গ্রামের কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
থানায় দেওয়া অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাফিজ তার বাড়ির পাশেই সদরের উত্তর হামছাদী ও রামগঞ্জ লামচর ইউনিয়নের বর্ডারে একটি মাছের ঘের দেন। ঘেরটি বড় করার জন্য তিনি পাশের জমিগুলো কিনতে মালিকদের প্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে ইজারা নেওয়ারও চেষ্টা করেন। তবে কেউই তার কাছে জমি বিক্রি বা ইজারা দিতে রাজি হয়নি। এরমধ্যে তিনি কয়েকজনের জমি কেটে ঘেরে সংযুক্ত করে নিয়েছেন। এতে সিরাজেরও প্রায় ছয় শতাংশ জমি তিনি ভেক্যু দিয়ে কেটে ঘেরে সংযুক্ত করে নেন।
অভিযোগকারী সিরাজুল ইসলাম জানান, হাফিজের ঘেরের ভেতরে আমার ছয় শতাংশ জমি রয়েছে। জোরপূর্বক তিনি তা দখল করে রেখেছেন। ঘেরের পাশেই আমার আরও ৪৮ শতাংশ জমি রয়েছে। এখন ওই জমিগুলোও তিনি দখল করতে চাচ্ছেন। গত ১২ জুন জুমার নামাজের সময় ভেক্যু মেশিন দিয়ে আমার জমির প্রায় ২৫টি গাছ উপড়ে ফেলে এবং মাটি কেটে নেয়। বাধা দিতে গেলে লোকজন দিয়ে হুমকি-ধমকি ও হামলা চালায়।
সিরাজ ছাড়াও আবুল হাশেম, কামরুল ইসলাম, পেয়ারা খাতুন ও ইয়াছমিন সুলতানাও অবৈধভাবে তাদের জমি দখলের চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
আবুল হাশেম বলেন, ঘেরের পাশের পুরাতন রাস্তা কেটে হাফিজ এখন সরু করে ফেলছেন। যেকোন সময় তিনি আমার জমি দখল করতে পারেন। কামরুল ইসলাম বলেন, হাফিজ মৎস্য খামার দিচ্ছে। এর পাশে সামনের অংশে আমার ২৬ শতাংশ জমি রয়েছে। ভয়ে আছি, কবে তিনি আবার জমিটি পুকুর বানিয়ে দখল করে নেয়।
পেয়ারা খাতুন নামে আরেক নারী বলেন, ঘর করার জন্য সিরাজের জমির পাশেই আমাদের ১০ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমি আমরা বিক্রি করব না। কিন্তু হাফিজ বিভিন্নভাবে পাঁয়তারা করছে জমিটি নিয়ে যাওয়ার জন্য।
অভিযোগের বিষয়ে হাফিজ তোহা বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, জমি দখল চেষ্টার ঘটনায় হাফিজ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করা হবে।






