বৃষ্টি কমায় সুনামগঞ্জে কমছে নদ-নদীর পানি

টানা বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় সুনামগঞ্জের সুরমা, কুশিয়ারা, রক্তি, জাদুকাটা, বৌলাইসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি পয়েন্টে এখনও পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা রয়েছে ৭ দশমিক ৪২ মিটার। অন্যদিকে ছাতক সুরমা সেতু পয়েন্টে পানি ১১ সেন্টিমিটার কমলেও এখনও বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেখানে পানির উচ্চতা ৮ দশমিক ৭৪ মিটার।
এদিকে সুনামগঞ্জ-হবিগঞ্জ সীমান্তবর্তী কুশিয়ারা নদীর দিরাই উপজেলার মার্কুলি পয়েন্টে পানি ৫ সেন্টিমিটার কমে ৭ দশমিক ১০ মিটারে নেমেছে। তবে এ পয়েন্টেও নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাউবো জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলায় ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ছাতক উপজেলায় ৩২ মিলিমিটার এবং তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় এলাকায় ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
অন্যদিকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যেও গত ২৪ ঘণ্টায় তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, মাউসিনরামে ৭ মিলিমিটার, মাওকিরওয়াতে ১ দশমিক ৫ মিলিমিটার, আরকেএম সোহরায় ১৪ মিলিমিটার, চেরাপুঞ্জিতে ৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার এবং শেল্লায় ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের উত্তর আরপিননগর এলাকার বাসিন্দা রুজেল আহমদ বলেন, ‘গত সাত-আট দিন টানা বৃষ্টিপাতের পর সোমবার দুপুর থেকে বৃষ্টি থেমেছে। সেই সঙ্গে সুরমা নদীর পানিও কমেছে। আজও আকাশ পরিষ্কার রয়েছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে এবং বৃষ্টিপাত না হলে নদ-নদীর পানি আরও কমবে।’
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সজিব হোসাইন বলেন, ‘সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে আগামী আরও এক দিন কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময় কোথাও বৃষ্টি, কোথাও রোদ থাকতে পারে। তবে আগামী ১৬ জুলাই থেকে এ অঞ্চলে আবারও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।’
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সুনামগঞ্জ ও ভারতের মেঘালয় এলাকায় আরও এক দিন মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্তমানে বৃষ্টিপাত কম থাকায় সুরমাসহ জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানি কমছে। ভারী বৃষ্টিপাত না হলে নদ-নদীর পানির উচ্চতা আরও কমবে এবং বন্যার আশঙ্কাও অনেকটা কেটে যাবে।’
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য ৪৯২টি নৌযান, প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক এবং ১ হাজার ৫৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’





