পাইলস ভেবে অবহেলা করবেন না, এই লক্ষণ হতে পারে কোলন ক্যানসারেরও

মলত্যাগের সময় রক্তপাত, দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য বা মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তনকে অনেকেই পাইলসের সাধারণ লক্ষণ ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, একই ধরনের কিছু উপসর্গ কোলন বা বৃহদান্ত্রের ক্যানসারেরও প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। তাই এসব লক্ষণ বারবার দেখা দিলে নিজে থেকে অনুমান না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কোলন ক্যানসার শুরুতে অনেক সময় তেমন কোনো লক্ষণ সৃষ্টি করে না। তবে মলত্যাগের অভ্যাসে অস্বাভাবিক পরিবর্তন, মলের সঙ্গে রক্ত বা দীর্ঘদিনের পেটের সমস্যা অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
মলের সঙ্গে রক্ত দেখা যাওয়া
মলত্যাগের সময় বা পরে টয়লেট পেপারে উজ্জ্বল লাল রক্ত কিংবা মলের সঙ্গে গাঢ় রঙের রক্ত দেখা গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। অবশ্যই রক্ত মানেই ক্যানসার নয়। পাইলস বা অ্যানাল ফিশারের কারণেও এমন হতে পারে। তবে বারবার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
মলত্যাগের অভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন
হঠাৎ করে দীর্ঘদিন ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া, কিংবা আগের তুলনায় মলত্যাগের স্বাভাবিক অভ্যাস বদলে গেলে সেটিও সতর্কতার লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে এই পরিবর্তন কয়েক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
মল খুব সরু বা ফিতার মতো হওয়া
যদি নিয়মিত মল আগের তুলনায় অনেক সরু বা ফিতার মতো হতে শুরু করে, তাহলে তা কোলনের ভেতরে কোনো বাধা বা টিউমারের ইঙ্গিত হতে পারে। যদিও অন্যান্য কারণেও এমন হতে পারে, তবুও দীর্ঘদিন এভাবে চললে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
মলত্যাগের পরও পেট পুরো খালি না হওয়ার অনুভূতি
অনেকেরই মলত্যাগের পরও মনে হয় যেন এখনও পেটে মল রয়ে গেছে। এই অনুভূতি যদি বারবার হয় এবং দীর্ঘদিন থাকে, তাহলে সেটিও কোলন ক্যানসারের একটি সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে।
পেটব্যথা বা পেট ফাঁপা
দীর্ঘদিন ধরে পেটব্যথা, পেটে খিঁচুনি, গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা থাকলেও তা অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে এসব সমস্যা যদি নিয়মিত হয় এবং অন্য কোনো কারণ না পাওয়া যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
অকারণে ওজন কমে যাওয়া ও ক্লান্তি
খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামে কোনো পরিবর্তন না এনে যদি দ্রুত ওজন কমতে থাকে, অথবা সবসময় ক্লান্ত লাগে, তাহলে সেটিও কোলন ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় দীর্ঘদিন অল্প অল্প রক্তক্ষরণের কারণে রক্তশূন্যতা তৈরি হয়, যা অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণ হয়।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
- বয়স ৪৫ বছরের বেশি
- পরিবারে কোলন ক্যানসারের ইতিহাস থাকা
- স্থূলতা
- ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান
- প্রক্রিয়াজাত ও লাল মাংস বেশি খাওয়া
- শারীরিক পরিশ্রম কম করা
- দীর্ঘদিনের প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগ থাকা
কীভাবে ঝুঁকি কমানো যায়?
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
- প্রতিদিন পর্যাপ্ত শাকসবজি, ফল ও আঁশযুক্ত খাবার খান।
- নিয়মিত শরীরচর্চা করুন।
- স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
- ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলুন।
- বয়স ৪৫ বছরের পর বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত কোলন ক্যানসার স্ক্রিনিং করান।
মলের সঙ্গে রক্ত, দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া, সরু মল কিংবা মলত্যাগের পরও পেট পরিষ্কার না হওয়ার অনুভূতি সব সময় কোলন ক্যানসারের কারণে হয় না। তবে এসব লক্ষণ কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকলে বা বারবার দেখা দিলে অবহেলা করা ঠিক নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করালে রোগের কারণ নির্ণয় করা সহজ হয় এবং কোলন ক্যানসার থাকলেও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব।
সূত্র: নিউজ বাংলা ১৮




