আক্দ সম্পন্ন হলেই কি বিয়ে হয়

বিয়ে মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। এটি স্বাভাবিক জীবনের অনিবার্য প্রয়োজন। বিয়ে মানবসৃষ্ট কোনো চুক্তি নয়, বরং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক পবিত্র বিধান। পরিবার গঠনের ভিত্তি। মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা ও নারী-পুরুষের জৈবিক চাহিদা পূরণে বৈধ মিলনের জন্য বিয়ের বিধান দিয়েছেন আল্লাহ। বিয়েবদ্ধ জীবনে রয়েছে শৃঙ্খলা। রয়েছে প্রশান্তি ও আত্মার তৃপ্তি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তাঁর (আল্লাহ) নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও মায়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা রুম, আয়াত: ২১)
যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখেন, তাদেরকে সঠিক সময়ে বিয়ে করতে উৎসাহিত করেছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি বলেছেন, ‘হে যুব সমাজ, তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তাদের বিয়ে করা কর্তব্য। কেননা বিয়ে দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণকারী, যৌনাঙ্গের পবিত্রতাকারী।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬)
বিয়ে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বিয়ে আমার সুন্নত। যে আমার সুন্নত অনুযায়ী আমল করে না, সে আমার দলভুক্ত নয়। তোমরা বিয়ে করো। কারণ, আমি উম্মতের সংখ্যা নিয়ে হাশরের মাঠে গর্ব করব।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৮৪৬)
বিয়ের মৌলিক কাজ হলো, বরের কাছে মেয়ের অভিভাবক বা তার প্রতিনিধির পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব উপস্থাপন করার পর বর বা তার প্রতিনিধি এতে সম্মতি দেবে।
বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য কয়েকটি শর্ত আছে। যেমন—এক. পরস্পর বিয়ে বৈধ হয়, এমন পাত্র-পাত্রী হওয়া। দুই. পাত্র-পাত্রীর সম্মতি থাকা। তিন. মেয়েকে বিয়ে করানোর জন্য অভিভাবক থাকা। মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হলে অভিভাবক ছাড়াও তার বিয়ে হয়। চার. দুজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ বা একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও দুজন নারী সাক্ষী থাকা। পাঁচ. বিয়ের জন্য মেয়েকে মোহর দেওয়া।
ইসলামি শরিয়তে আক্দ সম্পন্ন হলেই বিয়ে হয়ে যায়। আক্দ হলো দুজন স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে অভিভাবকের প্রস্তাবের ভিত্তিতে বরের কবুল বলা। আক্দ হওয়ার পর স্বামী-স্ত্রী পরস্পরে মেলামেশা ও সাক্ষাৎ করতে পারবে। এমনকি স্বামী মারা গেলে স্ত্রী মোহরানাসহ যাবতীয় মিরাসের অংশীদার হবে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২১২৪)। তবে বর্তমানে এনজেগমেন্ট বা আংটি পরানোর যে প্রথা চালু আছে, তা কখনও আক্দ হিসেবে গণ্য হবে না।
এ বিষয়ে নরসিংদী জেলা তানযীম ফাতওয়া বোর্ডের সদস্য ও দারুল উলুম দত্তপাড়া মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মুফতি নুরুল হুদা এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আক্দের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়। ইসলামি শরিয়তে মূল কথা হলো, দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব (প্রস্তাব) এবং কবুল (গ্রহণ) সম্পন্ন করা। ইজাব ও কবুল সম্পন্ন হওয়াই হলো আক্দ। আকদের মাধ্যমে বিয়ে হয়ে যায়। আকদের পর তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো আচরণ করতে পারবেন।’





