জ্বরে খেতে ইচ্ছা না করা কি স্বাভাবিক, জানুন বিজ্ঞান কী বলছে

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
জ্বরে খেতে ইচ্ছা না করা কি স্বাভাবিক, জানুন বিজ্ঞান কী বলছে
ছবি : সংগৃহীত

জ্বর হলে ক্ষুধা কমে যাওয়া অনেকের কাছেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে বিজ্ঞান বলছে, অসুস্থ অবস্থায় খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় শরীরে এমন কিছু পরিবর্তন ঘটে, যার প্রভাব মস্তিষ্কের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী অংশেও পড়ে।

তাই জ্বরের সময় কম খেতে ইচ্ছা করা অস্বাভাবিক নয়। তবে দীর্ঘ সময় না খাওয়া বা পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং সুস্থ হতে বেশি সময় লাগতে পারে।

জ্বর হলে অনেকেরই খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যায়। প্রিয় খাবার সামনে থাকলেও খেতে ইচ্ছা করে না। কেউ আবার দুই-এক লোকমা খেয়েই আর খেতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা প্রায়ই চিন্তায় পড়ে যান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বরের সময় ক্ষুধা কমে যাওয়া শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। এটি সাধারণত রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা এবং মস্তিষ্কের সমন্বিত কাজের ফল। তবে দীর্ঘ সময় কিছুই খেতে না পারা বা পর্যাপ্ত পানি পান না করা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

জ্বরের সময় ক্ষুধা কেন কমে?

শরীরে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা অন্য কোনো জীবাণুর সংক্রমণ হলে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। তখন শরীরে বিভিন্ন রাসায়নিক বার্তাবাহক, যেমন সাইটোকাইন, নিঃসৃত হয়।

এই সাইটোকাইনগুলো শুধু সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে না, মস্তিষ্কের এমন অংশেও প্রভাব ফেলে যা শরীরের তাপমাত্রা, ক্ষুধা এবং শক্তি নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলেই জ্বর, ক্লান্তি এবং ক্ষুধামন্দার মতো উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দিতে পারে।

এটি কি শরীরের প্রতিরক্ষার অংশ?

অনেক গবেষকের মতে, জ্বরের সময় ক্ষুধা কমে যাওয়া শরীরের একটি অভিযোজনমূলক প্রতিক্রিয়া। অসুস্থ অবস্থায় শরীর শক্তির বড় একটি অংশ রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার কাজে ব্যবহার করে। এ সময় বিশ্রাম নেওয়া এবং শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এর অর্থ এই নয় যে জ্বর হলে না খেয়ে থাকা উচিত। শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করতে পর্যাপ্ত পুষ্টি ও তরলেরও প্রয়োজন হয়।

জ্বর হলে কি জোর করে খেতে হবে?

সাধারণত জোর করে বেশি খাওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে সারাদিন একেবারে না খেয়ে থাকাও ঠিক নয়।

যদি ভারী খাবার খেতে ইচ্ছা না করে, তাহলে অল্প অল্প করে সহজপাচ্য খাবার খাওয়া যেতে পারে। যেমন - পাতলা খিচুড়ি, স্যুপ, ভাত ও ডাল, দই, কলা বা অন্যান্য নরম ফল অথবা টোস্ট বা বিস্কুট। একবারে বেশি না খেয়ে অল্প পরিমাণে কয়েকবার খেলে অনেকের জন্য তা সহজ হয়।

পানি পান কেন জরুরি?

জ্বরের সময় শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এবং ঘামের কারণে শরীর থেকে বেশি পানি বেরিয়ে যেতে পারে। তাই এ সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পানি, ওরাল স্যালাইন, ডাবের পানি, স্যুপ বা অন্যান্য তরল খাবার শরীরে পানির ঘাটতি কমাতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বেশি থাকায় তাদের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন।

ক্ষুধা না ফিরলে কী করবেন?

সাধারণত জ্বর কমে গেলে ধীরে ধীরে ক্ষুধাও ফিরে আসে। তবে যদি কয়েক দিন ধরে কিছুই খেতে না পারেন, বারবার বমি হয়, পর্যাপ্ত পানি পান করা সম্ভব না হয় বা দুর্বলতা দ্রুত বাড়তে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতিকে অবহেলা করা উচিত নয়।

জ্বরের সময় শরীরের কথা শুনুন

জ্বর হলে ক্ষুধা কমে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। এটি অনেক সময় শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থারই একটি অংশ। তবে ক্ষুধা না থাকলেও পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়ার চেষ্টা করা প্রয়োজন।

যদি ক্ষুধামন্দা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় বা এর সঙ্গে অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সূত্র: টিভি ৯