Advertisement

বর্ষায় ফ্রিজের তাপমাত্রা কত রাখলে ভালো থাকবে খাবার

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
বর্ষায় ফ্রিজের তাপমাত্রা কত রাখলে ভালো থাকবে খাবার
ছবি : সংগৃহীত

বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই এ সময় ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ঠিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ফ্রিজে খাবার রাখলেই যথেষ্ট নয়। সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা, অপ্রয়োজনে বারবার দরজা না খোলা এবং নিয়মিত পরিষ্কার রাখার মতো কয়েকটি অভ্যাস অনুসরণ করলে খাবার দীর্ঘ সময় নিরাপদ ও টাটকা রাখা সম্ভব।

বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে ঘরের বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ওপর, বিশেষ করে ফ্রিজে। অনেকেই এই সময় ফ্রিজের গায়ে পানি জমতে দেখেন, ভেতরে অতিরিক্ত আর্দ্রতা তৈরি হয়, খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় বা দুর্গন্ধ তৈরি হয়। এসব সমস্যার পেছনে অনেক সময় কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং বর্ষাকালের আবহাওয়া এবং কিছু ভুল ব্যবহারের অভ্যাস দায়ী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষায় ফ্রিজের তাপমাত্রা ঠিক রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললে খাবার দীর্ঘ সময় নিরাপদ রাখা যায়। একই সঙ্গে ফ্রিজও ভালোভাবে কাজ করে এবং বিদ্যুৎ খরচও কম হয়।

বর্ষায় ফ্রিজের তাপমাত্রা কত হওয়া উচিত?

বেশির ভাগ আধুনিক রেফ্রিজারেটরের জন্য বর্ষাকালে ফ্রিজের তাপমাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ফ্রিজারের তাপমাত্রা মাইনাস ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাখা উপযুক্ত বলে নির্মাতারা পরামর্শ দেন। এতে খাবার নিরাপদ থাকে এবং অতিরিক্ত আর্দ্রতার প্রভাবও কিছুটা কমে।

তবে সব মডেলের ফ্রিজ এক রকম নয়। তাই আপনার ফ্রিজের ব্যবহারবিধি অনুযায়ী তাপমাত্রা নির্ধারণ করাই সবচেয়ে ভালো।

ফ্রিজের গায়ে পানি জমলে কি চিন্তার কারণ?

বর্ষাকালে অনেকেই দেখেন ফ্রিজের বাইরের অংশ বা ভেতরের তাকে ছোট ছোট পানির ফোঁটা জমছে। এটি সাধারণত উচ্চ আর্দ্রতার কারণে ঘটে। বাইরে থেকে আসা উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস ঠান্ডা পৃষ্ঠের সংস্পর্শে এলে পানি জমে যায়।

এটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক ঘটনা। তবে যদি অতিরিক্ত পানি জমতে থাকে, তখন দরজার রাবার ঠিকমতো লাগছে কি না বা ফ্রিজের দরজা বেশি সময় খোলা থাকছে কি না, সেগুলো পরীক্ষা করা উচিত।

বর্ষায় ফ্রিজ ভালো রাখতে কী করবেন?

দরজা বারবার খুলবেন না: প্রতিবার দরজা খুললে বাইরের আর্দ্র বাতাস ফ্রিজে ঢুকে পড়ে। এতে ভেতরে পানি জমার সম্ভাবনা বাড়ে এবং ফ্রিজকে বেশি কাজ করতে হয়। তাই প্রয়োজন ছাড়া বারবার দরজা খোলা এড়িয়ে চলুন।

গরম খাবার সরাসরি রাখবেন না: রান্না করা গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখলে ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প তৈরি হয়। খাবার স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ঠান্ডা হওয়ার পর ফ্রিজে রাখুন।

খাবার ঢেকে সংরক্ষণ করুন: খোলা খাবার ফ্রিজে রাখলে আর্দ্রতা বাড়ে এবং ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। তাই সব খাবার ঢাকনাযুক্ত পাত্রে বা ভালোভাবে মোড়ানো অবস্থায় সংরক্ষণ করুন।

ফ্রিজ অতিরিক্ত ভর্তি করবেন না: অনেকে বাজার করে একসঙ্গে অনেক খাবার ফ্রিজে গুঁজে রাখেন। এতে ঠান্ডা বাতাস ঠিকমতো চলাচল করতে পারে না। ফলে কিছু জায়গা বেশি ঠান্ডা হয়, আবার কিছু জায়গায় খাবার দ্রুত নষ্ট হতে পারে।

নিয়মিত পরিষ্কার করুন: বর্ষায় সপ্তাহে অন্তত একবার ফ্রিজের তাক, সবজি রাখার ট্রে এবং দরজার রাবার পরিষ্কার করা ভালো। এতে ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া এবং দুর্গন্ধের ঝুঁকি কমে।

দরজার রাবার পরীক্ষা করুন: দরজার রাবার ঢিলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাইরের আর্দ্র বাতাস সহজেই ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে ফ্রিজের কার্যক্ষমতা কমে যায়। তাই নিয়মিত রাবার পরিষ্কার করুন এবং প্রয়োজন হলে পরিবর্তন করুন।


ফ্রিজ কোথায় রাখবেন?

ফ্রিজ এমন জায়গায় রাখুন যেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে। দেয়ালের সঙ্গে একেবারে লাগিয়ে রাখবেন না। সরাসরি রোদ, কুলার বা ফ্যানের ঠিক সামনে ফ্রিজ রাখা থেকেও বিরত থাকুন। এতে ফ্রিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

বিদ্যুৎ চলে গেলে কী করবেন?

বর্ষাকালে বজ্রপাত ও বিদ্যুতের ওঠানামা বেশি হয়। তাই সম্ভব হলে স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করুন। বিদ্যুৎ চলে গেলে অকারণে ফ্রিজের দরজা খুলবেন না। এতে ভেতরের ঠান্ডা অনেকক্ষণ ধরে রাখা সম্ভব হয়।

কখন প্রযুক্তিবিদের সাহায্য নেবেন?

ফ্রিজ ঠিকমতো ঠান্ডা না করা, অতিরিক্ত পানি জমা, অস্বাভাবিক শব্দ হওয়া, খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়া ও দুর্গন্ধ দূর না হওয়ার মতো সমস্যাগুলো নিয়মিত দেখা দিলে দেরি না করে সার্ভিস সেন্টারে যোগাযোগ করুন।

এসব লক্ষণ ফ্রিজের যান্ত্রিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

বর্ষাকালে ফ্রিজের একটু বাড়তি যত্নই খাবারকে দীর্ঘ সময় নিরাপদ রাখতে পারে। সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা, দরজা কম খোলা, পরিষ্কার রাখা এবং খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার মতো ছোট ছোট অভ্যাস আপনার ফ্রিজের কার্যক্ষমতা বাড়াবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ খরচও কমবে এবং ফ্রিজ দীর্ঘদিন ভালো থাকবে।

সূত্র: এই সময় অনলাইন