৪৮ দলেই থামছে না ফিফা, এবার ৬৪ দল নিয়ে সমীক্ষা

৩২ থেকে বাড়িয়ে সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপে প্রথমবার ৪৮টি দল খেলিয়েছে ফিফা। সেই আসর শেষ হওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যেই আরও বড় বিশ্বকাপের সম্ভাবনা যাচাইয়ে নেমেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। শতবর্ষের ২০৩০ বিশ্বকাপ ৬৪ দল নিয়ে আয়োজন করা যায় কি না, তার প্রভাব নিয়ে সমীক্ষা চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে ফিফা।
ফিফার একটি গবেষণা-সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। তবে ২০৩০ বিশ্বকাপে ৬৪ দলের অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। সম্ভাব্য পরিবর্তনের সুবিধা, ঝুঁকি ও আর্থিক প্রভাব যাচাই করতেই স্বাধীন একটি সংস্থা নিয়োগ করতে চায় ফিফা।
নথিতে বলা হয়েছে, ৪৮ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন করলে প্রতিযোগিতার কাঠামো কীভাবে প্রভাবিত হবে, সেটি নির্ধারণ করবে ওই সংস্থা। নতুন ব্যবস্থায় বিশ্বকাপের মান বাড়বে, নাকি টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য নষ্ট হবে, সেটিও সমীক্ষায় দেখা হবে।
দলের সংখ্যা বাড়ানোর ফলে বাছাইপর্ব, খেলোয়াড়দের শারীরিক চাপ, আন্তর্জাতিক ফুটবল সূচি এবং আয়োজকদের পরিচালনাগত জটিলতায় কী প্রভাব পড়তে পারে, তা বিশ্লেষণের আওতায় থাকবে। বেশি ম্যাচের কারণে দর্শকদের আগ্রহ কমে যাওয়ার কিংবা বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরির আশঙ্কাও যাচাই করা হবে।
এর পাশাপাশি টিকিট বিক্রি, পৃষ্ঠপোষকতা এবং সম্প্রচারস্বত্ব থেকে কতটা অতিরিক্ত আয় হতে পারে, তার হিসাব করবে সমীক্ষাকারী সংস্থা। ফিফার নথিতে বলা হয়েছে, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ থেকে শুধু বাড়তি আয় হবে কি না, তা দেখলেই চলবে না। সেই আর্থিক সুবিধা দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই হবে কি না, সেটিও প্রমাণ করতে হবে।
ফিফা আগামী ১৪ আগস্টের মধ্যে সমীক্ষার দায়িত্ব পাওয়া সংস্থার নাম চূড়ান্ত করতে চায়। এরপর তাদের হাতে থাকবে মাত্র চার সপ্তাহ। আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশন কনমেবল গত বছর আনুষ্ঠানিকভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপ ৬৪ দল নিয়ে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল। তাদের যুক্তি ছিল, বিশ্বকাপের শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে আরও বেশি দেশকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া উচিত।
তবে প্রস্তাবটির বিরোধিতাও কম নয়। উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার চেফেরিন গত বছরই ৬৪ দলের বিশ্বকাপকে ভালো ধারণা নয় বলে মন্তব্য করেছিলেন। ইউরোপের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির সেই অবস্থান এখনো বদলায়নি।
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফাও প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছেন। বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকলে এই সম্প্রসারণ কোথায় গিয়ে থামবে, সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।
১৯৯৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিশ্বকাপে খেলেছে ৩২টি দল। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় আয়োজিত ২০২৬ আসরে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৮ করা হয়। এতে নতুন একটি নকআউট পর্ব যুক্ত হওয়ায় ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১০৪টিতে। পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলে প্রতিযোগিতা।
৬৪ দলের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আরও ১৬টি দেশ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। তবে সম্ভাব্য টুর্নামেন্টের কাঠামো, গ্রুপসংখ্যা কিংবা মোট ম্যাচের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ফিফা।
২০৩০ বিশ্বকাপের মূল আয়োজক মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেন। প্রথম বিশ্বকাপের শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়েতেও একটি করে ম্যাচ হবে। ছয় দেশে হতে যাওয়া সেই আসরকে ৬৪ দলের বিশ্বকাপে রূপ দেওয়া হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করবে সেপ্টেম্বরের সমীক্ষা প্রতিবেদনের ওপর।
.png)





-3184af.webp)
-c0b717.webp)