বিশ্বব্যাপী বিরোধিতায় বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল ফিফার

বিশ্বব্যাপী বয়কটের সিদ্ধান্তেও পিছু হটবে না, কয়েক ঘণ্টা আগেও এমন অবস্থানের কথা জানিয়েছিল ফিফা। শেষ পর্যন্ত ইউরোপ, এশিয়া এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার সম্মিলিত চাপের মুখে বিশ্বকাপসহ নিজেদের বড় প্রতিযোগিতায় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা বাতিল করেছে সংস্থাটি।
এক বিবৃতিতে পরিকল্পনাটি আর এগিয়ে না নেওয়ার কথা জানান ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। প্রস্তাবটি ঘিরে বিশ্ব ফুটবলে বিভাজন তৈরি হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন তিনি।
ইনফান্তিনো বলেন, ‘সব মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনার পর স্পষ্ট হয়েছে, প্রকল্পটি এমন বিভাজন তৈরি করেছে, যা আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্যের স্বার্থে আর গ্রহণযোগ্য নয়। তাই এই প্রস্তাব আর এগোবে না।’
ফিফার পরিকল্পনা ছিল ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করা। বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার কথা ছিল প্রতিষ্ঠানটিকে।
নতুন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে সর্বোচ্চ ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছিল ফিফা। বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর নেতৃত্বে থাকার কথা ছিল জশুয়া কুশনারের প্রতিষ্ঠিত থ্রাইভ ক্যাপিটালের একটি তহবিলের।
পরিকল্পনাটি অনুমোদিত হলে ফিফার প্রত্যেক সদস্য দেশকে ৪ কোটি ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সদস্য দেশগুলোর সমর্থন আদায়ের লক্ষ্য ছিল সংস্থাটির।
তবে প্রস্তাব প্রকাশের পরপরই বিরোধিতা শুরু হয়। পরিকল্পনা প্রত্যাহার করা না হলে ফিফার বিশ্বকাপসহ সব প্রতিযোগিতা বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয় উয়েফা এবং ইউরোপের ৫৫টি দেশ। জরুরি সভায় সর্বসম্মতভাবে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এরপর প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে কনকাকাফ। উয়েফা ও কনকাকাফের অবস্থানের প্রতি সংহতি জানায় এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও। তিনটি মহাদেশীয় সংস্থার অধীনে রয়েছে ফিফার ২১১ সদস্যের মধ্যে ১৪৩টি দেশ। ফলে পরিকল্পনাটি অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়।
ফিফার ভেতরেও পরিকল্পনাটি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করেন ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কোরদেইরো। প্রস্তাবটিকে ফুটবলের জন্য ক্ষতিকর চুক্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুরও পরিকল্পনাটির সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, ফিফার কর্মীদের অন্ধকারে রেখে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছিল। এটিকে একজনের পরিকল্পনা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চাপের মুখে পরিকল্পনা বাতিল করলেও সব পক্ষকে আবার আলোচনায় আনার কথা বলেছেন ইনফান্তিনো। বিশেষ করে যেসব দেশে ফুটবলের উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা বেশি প্রয়োজন, সেখানে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ফিফা সভাপতি।
প্রস্তাবটি বাতিল হওয়ায় আপাতত ইউরোপের দেশগুলোর বিশ্বকাপ বয়কটের আশঙ্কা কেটেছে। তবে পরিকল্পনাটি যেভাবে সামনে আনা হয়েছিল, তা নিয়ে ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ঘিরে ওঠা প্রশ্ন এখনই শেষ হচ্ছে না।
.png)


-3184af.webp)
-c0b717.webp)

-473da7.webp)