Advertisement

উয়েফা-কনকাকাফের পাশে এএফসি, আরও কোণঠাসা ফিফা

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
উয়েফা-কনকাকাফের পাশে এএফসি, আরও কোণঠাসা ফিফা
এবার ফিফার বিরুদ্ধে গেল এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনও। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপসহ নিজেদের প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা নিয়ে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়েছে ফিফা। উয়েফা ও কনকাকাফের পর এবার প্রস্তাবটির বিরোধিতায় সরাসরি অবস্থান নিয়েছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে এএফসি জানিয়েছে, ফিফার পরিকল্পনার বিরোধিতা করা উয়েফা ও কনকাকাফের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে তারা। প্রস্তাবটি নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা, স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছে এশিয়ার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বিশ্বকাপ ও নিজেদের অন্যান্য প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনায় ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা করেছে ফিফা। প্রায় দুই হাজার কোটি ডলার মূল্যমানের প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহ করতে চায় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এএফসি মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পরিকল্পনার পক্ষে প্রয়োজনীয় ঐকমত্য ও ফুটবল বিশ্বের ঐক্য অর্জন সম্ভব নয়। সংস্থাটি বলেছে, বিশ্বকাপের শক্তি আসে সব মহাদেশ এবং বিশ্বের সেরা ফুটবল দেশগুলোর অংশগ্রহণ থেকে। এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা নিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

তবে উয়েফার মতো ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের ঘোষণা দেয়নি এএফসি। বয়কটের আলোচনা এত দূর গড়ানোতেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

এএফসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বিশ্বকাপ বয়কটের বাস্তব সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা হচ্ছে। ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন এমন প্রত্যেকেরই এতে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। ফুটবলকে কখনোই এমন অবস্থায় ফেলা উচিত ছিল না।’

এর আগে এএফসির ৪৭ সদস্য দেশের কাছে পাঠানো চিঠিতে ফিফার কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করেন সংস্থাটির সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা। পরিকল্পনাটি প্রকাশের আগে এএফসির সঙ্গে কোনো পর্যায়েই আলোচনা করা হয়নি জানিয়ে তিনি বিষয়টিকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন।

শেখ সালমান আরও জানান, প্রস্তাবটির প্রশাসনিক, আর্থিক ও আইনি প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত কোনো বিশ্লেষণও এএফসিকে দেওয়া হয়নি। ফিফার একতরফা পদক্ষেপ মহাদেশীয় ফুটবলের সংহতি, সহযোগিতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিকেই দুর্বল করে দিচ্ছে বলে সতর্ক করেন তিনি।

তুমুল বিরোধিতার মধ্যেও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ফিফা। সংস্থাটি বলেছে, প্রত্যেক সদস্য দেশকে প্রস্তাবটি পর্যালোচনা এবং নিজেদের মতামত জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে।

ফিফার এই আশ্বাসেও সন্তুষ্ট নয় এএফসি। তাদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক পরিচালনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং অর্থপূর্ণ আলোচনার মতো মূল প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।

এএফসি বলেছে, শুধু ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখলেই কোনো প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক হয়ে যায় না। স্বচ্ছ পরিচালনা, সময়মতো আলোচনা, প্রয়োজনীয় তথ্যের ভিত্তিতে পর্যালোচনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সবার প্রকৃত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

উয়েফা ইতিমধ্যে পরিকল্পনাটি পুরোপুরি বাতিল না করা পর্যন্ত ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কনকাকাফও প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে। এবার এএফসিও তাদের পাশে দাঁড়ানোয় জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ল।