টাইফুন বাভির প্রভাবে ফিলিপাইনে ১৫ মৃত্যু

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
টাইফুন বাভির প্রভাবে ফিলিপাইনে ১৫ মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’র প্রভাবে সৃষ্ট ভূমিধসে দক্ষিণ ফিলিপাইনে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এদিকে এই ঝড়ের প্রভাবে পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অংশ এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।।

বিবিসি জানিয়েছে, মিন্দানাও দ্বীপে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতের এই ভূমিধসে বেশ কয়েকটি পরিবার মাটিচাপা পড়েছে। উদ্ধারকারীরা এখনও নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন। প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার (৬২০ মাইল) ব্যাসের বিশাল এই টাইফুনটি প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসছে।

শনিবার (১১ জুলাই) দক্ষিণ-পূর্ব চীনে স্থলভাগে আঘাত হানার আগে এটি উত্তর ও পূর্ব তাইওয়ান এবং জাপানের প্রত্যন্ত দ্বীপপুঞ্জগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাত ঘটাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগের মুখে অঞ্চলজুড়ে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং স্কুলগুলোতে ক্লাস স্থগিত রয়েছে। বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মজুত করায় সুপারমার্কেটের তাকগুলো খালি হয়ে গেছে।

তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে যে, দ্বীপে ১ মিটার (৩৯ ইঞ্চি) পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় ২৯ হাজার সৈন্য প্রস্তুত রেখেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন জানিয়েছে, আয়তনের দিক থেকে ‘বাভি’ ১৯৮৭ সালের পর দ্বীপটিতে আঘাত হানতে যাওয়া সবচেয়ে বড় ঝড়।

ঝড়ের আশঙ্কায় উপকূলীয় অঞ্চল ও বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোতে হাজার হাজার বালির বস্তা বিতরণ করা হয়েছে। জেলেরা তাদের নৌকাগুলো শক্ত করে বেঁধে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়েছেন। ৬০ বছর বয়সি জেলে চেন মিং-হুই রয়টার্সকে বলেন, ‘এখনকার এই সুন্দর ও শান্ত আবহাওয়ায় বিভ্রান্ত হবেন না। এরকম একটি ঝড় সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হতে পারে।’ কৃষকেরাও তড়িঘড়ি করে মাঠের ফসল কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন।

প্রণালির অপর পাশে চীনও ‘বাভি’ নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে। দেশটির দক্ষিণ-পূর্ব ফুজিয়ান প্রদেশে আঘাত হানার পর টাইফুনটি উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে।

চীনের ইনস্টিটিউট অব পাবলিক অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক মা জুন সতর্ক করে বলেছেন, বাভির বিশাল আকার ও শক্তির কারণে এর বৃষ্টিবলয় উত্তর দিকের জিয়াংসু, আনহুই এবং বোহাই সাগর অঞ্চলের দিকে সরে যেতে পারে।

দক্ষিণাঞ্চলের তুলনায় টাইফুন মোকাবিলায় অভিজ্ঞতা কম থাকায় উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর প্রস্তুতি জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কিছু পূর্বাভাস অনুযায়ী, ‘বাভি’ চীনে দুইবার স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে।

জাপানের প্রত্যন্ত সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারাও উচ্চ সতর্কতায় রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ি ও দোকানের জানালা টেপ দিয়ে আটকে ঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত

টাইফুনের কারণে পূর্ব এশিয়ায় বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। জাপান এয়ারলাইন্স শুক্রবার ও শনিবারের জন্য ১০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে, যাতে প্রায় ২০ হাজার যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ রোববার (১২ জুলাই) পর্যন্ত ১৬০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে, যার ফলে আরও ২০ হাজার মানুষ বিপাকে পড়েছেন। এ ছাড়া থাই এয়ারওয়েজ ও মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সও তাইপে রুটের সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে।

মায়সাকের ক্ষত এখনও দগদগে

চলতি সপ্তাহের শুরুতে আঘাত হানা টাইফুন ‘মায়সাক’-এর সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞের রেশ এখনও দক্ষিণ চীনের কিছু অংশে রয়ে গেছে। গুয়াংজি অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মায়সাকের তাণ্ডবে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন এবং উদ্ধারকারীরা এখনও নিখোঁজদের সন্ধান করছেন। এই ঝড়ে বিপুল সংখ্যক গবাদি পশু মারা গেছে এবং কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া এর প্রভাবে মধ্য হুবাই প্রদেশে দুটি বিরল টর্নেডোরও সৃষ্টি হয়েছিল।