ভেঙে দেওয়া হচ্ছে ইসরায়েলের সংসদ, নির্বাচন ২৭ অক্টোবর

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ভেঙে দেওয়া হচ্ছে ইসরায়েলের সংসদ, নির্বাচন ২৭ অক্টোবর
ইসরায়েলের প্রধামনমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার নতুন রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে। আগামী ১৭ জুলাই দেশটির সংসদ (নেসেট) ভেঙে দেওয়া হবে। এরপরই শুরু হবে দেশটিতে জাতীয় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। আইন অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার পর আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার জোট সরকারের ওপর দেশটির নাগরিকদের রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে এটিই হবে প্রথম সুযোগ।

নির্বাচন সামনে রেখে আগামী শুক্রবার ইসরায়েলের সংসদ ‘নেসেট’ ভেঙে দেওয়া হবে। অধিবেশন শেষ হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকায় ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থি এই সরকার ভোটগ্রহণের আগে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে বেশ কয়েকটি বিতর্কিত আইন তড়িঘড়ি করে পাস করার চেষ্টা করছে।

এর মধ্যে রয়েছে তোরাহ অধ্যয়নকে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার সমতুল্য করা (যার মাধ্যমে অতি-গোঁড়া ইহুদিরা সেনাসেবা থেকে অব্যাহতি পেতে পারে) এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের ক্ষমতা দুর্বল করার বিল। অন্যদিকে, নির্বাচনের দিন পর্যন্ত অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চরমপন্থি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

৭৬ বছর বয়সি নেতানিয়াহু এবার শুধু তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, বরং দুর্নীতির মামলার কারণে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার জন্যও লড়ছেন। দীর্ঘদিনের এই মামলায় আগাম ক্ষমার আহ্বান জানিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও তিনি বিচারের সম্মুখীন।

বর্তমান জনমত জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভোটাররা এবার তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে পারে। যদিও তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলের রাজনীতিতে টিকে থাকা নেতানিয়াহু অতীতে বারবার সব হিসাব-নিকাশ ভুল প্রমাণ করেছেন।

নির্বাচনে নেতানিয়াহুর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য বিরোধী দলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাবেক চিফ অব স্টাফ গাদি আইজেনকোট। যুদ্ধে নিজের ছেলে ও দুই ভাতিজাকে হারানো আইজেনকোটের ‘ইয়াশার পার্টি’ সম্প্রতিক জনমত জরিপে প্রথমবারের মতো নেতানিয়াহুর ‘লিকুদ পার্টি’কে পেছনে ফেলেছে।

জরিপ অনুযায়ী, এখন নির্বাচন হলে মরক্কোর অভিবাসী পরিবার থেকে উঠে আসা আইজেনকোট ২৪টি ও নেতানিয়াহু ২৩টি আসন পাবেন।