রাজশাহী থেকে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, রাজশাহী
রাজশাহী থেকে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ
পুরোনো ছবি

পরিবহন শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক বিরোধ ও পাল্টা হামলার জেরে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের দূরপাল্লা ও আন্তজেলা বাস চলাচল হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে কাউন্টারে আসা হাজারো যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই মালিক ও শ্রমিকরা একযোগে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন এবং সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র মতবিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠেছে, বৈঠক থেকে বেরিয়ে শ্রমিক নেতা মোমিন ও শাহজাহানের নেতৃত্বে একদল শ্রমিক রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালের চেম্বার এবং হিমাচল পরিবহনের টিকিট কাউন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য বাস টার্মিনাল এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এই ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার অজুহাতে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের সব ধরনের দূরপাল্লা ও আন্তজেলা বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে টার্মিনালের অধিকাংশ টিকিট কাউন্টারও বন্ধ করে দেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘কোনো কারণ ছাড়াই মোমিন, শাহজাহান ও লিটনের নেতৃত্বে আমার চেম্বার ও বাস কাউন্টারে হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। তারাই আবার সারাদেশের সঙ্গে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা সাধারণ শ্রমিকদের বলেছি বাস চালাতে, আশা করছি অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে সকল রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে।’

এদিকে হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজশাহী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ নগরীর বিভিন্ন কাউন্টারে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। অনেকেই অগ্রিম টিকিট কেটেও নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে পারেননি। মনিরুল ইসলাম নামের এক ভুক্তভোগী যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কাউন্টারে এসে দেখি সব বন্ধ। কোনো বাস ছাড়ছে না। টিকিট কেটেও যেতে পারলাম না। এখন বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে। সাধারণ যাত্রীদের এভাবে জিম্মি করা চরম অন্যায়।’

এ বিষয়ে জানতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এর আগে, গত ২৩ এপ্রিল ইউনিয়নের কার্যালয় দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শিরোইল এলাকায় শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফেডারেশনের উদ্যোগে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর গত ১৮ মে ওই সদ্যঘোষিত কমিটি বাতিল এবং নির্বাচনের দাবিতে শ্রমিকরা আবারও বাস চলাচল বন্ধ করে দিলে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কমিটিটি বিলুপ্ত করা হয়।

সর্বশেষ আজকের এই ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (রাত ৮টা) রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।

বিষয় :রাজশাহী