মেঘনার ফোন থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদান

এশিয়া পোস্ট বিনোদন
মেঘনার ফোন থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদান
মেঘনা আলম।

বাংলাদেশে নিযুক্ত এক বিদেশি কূটনীতিকের সঙ্গে নাম জড়িয়ে গত বছর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন মডেল ও ‘মিস আর্থ বাংলাদেশ’ বিজয়ী মেঘনা আলম। কূটনীতিক ও ধনকুবেরদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেল ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে ধানমন্ডি থানায় করা একটি মামলা বর্তমানে তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সেই তদন্তের অংশ হিসেবে মেঘনা আলমের জব্দকৃত ডিজিটাল ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে আদালতে চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

ফরেনসিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মেঘনা আলমের আইফোন থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদান করা হয়েছে। এমনকি এক নারী তাকে নিজের স্বামীর জীবন থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ভয়েস মেসেজও পাঠিয়েছিলেন।

ফরেনসিক রিপোর্টে যা উঠে এসেছে, আদালতের নির্দেশে সিআইডির ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব মেঘনা আলমের কাছ থেকে জব্দ করা একটি ম্যাকবুক ল্যাপটপ, আইফোন ১৬ প্রো এবং একটি অপো মোবাইল পরীক্ষা করে। কারিগরি ত্রুটির কারণে অপো ফোনটি পরীক্ষা করা না গেলেও বাকি দুটি ডিভাইসের রিপোর্টে নিম্নোক্ত তথ্য মিলেছে। এ ছাড়া ল্যাপটপ: ম্যাকবুক ল্যাপটপটিতে মামলাসংক্রান্ত বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো আপত্তিকর তথ্য পাওয়া যায়নি।

আইফোন ১৬ প্রো: এই ফোনে থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনের দুটি আন্তর্জাতিক সিম ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। এ ছাড়া তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়ান সামির, মাহবুব ও আসমা নামের ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত মেসেজ আদান-প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিভাইসটিতে থাকা অ্যাপল আইডি থেকে ‘ইসা মাই হাজবেন্ড’ নামে সেভ করা একটি আইডিতে বিভিন্ন সময়ে মেসেজ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আইফোনে একজন নারীর ভয়েস রেকর্ড পাওয়া গেছে (ধারণা করা হচ্ছে তিনি সৌদি রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী), যেখানে তিনি মেঘনা আলমকে তার স্বামীর জীবন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। তবে নমুনা কণ্ঠস্বর না পাওয়ায় ভয়েস ম্যাচিং পরীক্ষা করা এখনও সম্ভব হয়নি।

গত বছরের ১০ এপ্রিল বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৩০ দিনের আটকাদেশ দিয়ে মডেল মেঘনাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই আটকাদেশ বাতিল হলেও ১৭ এপ্রিল ধানমন্ডি থানার প্রতারণা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২৮ এপ্রিল আদালত তার জামিন মঞ্জুর করলে ২৯ এপ্রিল তিনি কারামুক্ত হন।

কারাগার থেকে বের হয়ে গত বছরের ২৯ জুলাই মেঘনা তার পাসপোর্ট ও ডিভাইসগুলো ফেরত চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ডিভাইসগুলোতে রাষ্ট্রবিরোধী কোনো উপাদান আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সিআইডিকে ফরেনসিক পরীক্ষার নির্দেশ দেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সিআইডি এই রিপোর্ট তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করে, যা গত ১ মে আদালতের জুডিশিয়াল নথিতে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মেঘনার মামলার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. আখতার মোর্শেদ জানান, জব্দকৃত ডিভাইসের ফরেনসিক রিপোর্টটি অলরেডি আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে আরেকটি ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। সেটি হাতে পেলেই দ্রুত আদালতে চূড়ান্ত পুলিশ প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করা হবে।