চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে: মামুনুল হক

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে: মামুনুল হক
মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে নাগরিক সমাবেশে কথা বলছেন মামুনুল হক। শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ তিন রাস্তার মোড়ে। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (বিকেএম) আমির আল্লামা মামুনুল হক। তিনি বলেন, নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা ব্যবসা পরিচালনায় সাধারণ মানুষকে চাঁদা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ ধরনের চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। চাঁদাবাজদের কোনো অর্থ না দিয়ে শুধু সরকার নির্ধারিত কর পরিশোধ করুন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) জুমার নামাজের পর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ তিন রাস্তার মোড়ে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এক নাগরিক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর) শাখা এর আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মামুনুল হক বলেন, মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকা থেকে চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, দখলদারিত্ব, মাদক এবং মদের বার উচ্ছেদে সর্বাত্মক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমে এ এলাকাকে একটি নিরাপদ, সন্ত্রাসমুক্ত ও শান্তিময় আদর্শ নগরীতে পরিণত করা হবে।

কিশোর গ্যাং প্রসঙ্গে বিকেএমের আমির বলেন, দরিদ্র, এতিম ও পিতৃহারা কিশোরদের অপরাধচক্র বিভিন্নভাবে ব্যবহার করছে। এসব কিশোরদেরকে অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতায় তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে সমাজের সম্পদে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মাদককে সব ধরনের অপরাধের মূল কারণ উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পসহ যেসব এলাকায় মাদক কারবার বিস্তার লাভ করেছে, সেখানে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

লালমাটিয়া এলাকায় মদের বার পরিচালনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা নিশ্চিত করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ধর্মীয় মূল্যবোধকে দুর্বল করার প্রবণতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, শুধু সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর গুরুত্ব না দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার পরিবেশ জোরদার করা প্রয়োজন। বর্তমান জনপ্রতিনিধিরা জনগণের মৌলিক সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নর্দমা পরিষ্কারসহ নাগরিক বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও ঢাকা-১৩ আসনের সমন্বয়ক মাওলানা আশরাফুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং মোহাম্মদপুর থানার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশীদের পরিচালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হুসাইন রাজী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুর্শিদ সিদ্দিকী, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের ‍কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি মাওলানা এহসানুল হক, মাওলানা শামসুল আলম, মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি মাওলানা নুরুজ্জামান, ‍সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা ওমর ফারুক রাহমানী প্রমুখ।