একটি মাত্র নিয়ম মানলেই ওজন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব, জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা

ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সব সময় জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানো বা কঠিন ব্যায়াম করার প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসকদের মতে, দৈনন্দিন জীবনে মাত্র একটি সহজ নিয়ম মেনে চললেও ক্যালোরি খরচ বাড়ানো এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সেই নিয়ম হলো সুযোগ পেলেই লিফট বা এসকেলেটরের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা।
গবেষণায় দেখা গেছে, সমতল রাস্তায় হাঁটার তুলনায় সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার সময় প্রায় ২০ গুণ বেশি ক্যালোরি খরচ হতে পারে। তাই বাড়ি, অফিস বা শপিং মলে সুযোগ পেলেই লিফট বা এসকেলেটরের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা শরীরের জন্য বেশ উপকারী হতে পারে।
কেন সিঁড়ি বেয়ে ওঠা এত কার্যকর?
সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় শরীরকে মাধ্যাকর্ষণের বিপরীতে কাজ করতে হয়। ফলে পায়ের পেশি, নিতম্ব, কোমর এবং শরীরের অন্যান্য বড় পেশিগুলো একসঙ্গে সক্রিয় হয়। এ কারণে অল্প সময়েই বেশি শক্তি খরচ হয় এবং ক্যালোরিও বেশি পোড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরকে অনুভূমিকভাবে এক মিটার এগিয়ে নিতে যে পরিমাণ শক্তি লাগে, একই ওজনকে এক মিটার উঁচুতে তুলতে তার তুলনায় অনেক বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়। এ কারণেই সিঁড়ি বেয়ে ওঠা ক্যালোরি পোড়ানোর ক্ষেত্রে এত কার্যকর।
শুধু ওজন কমানো নয়, আরও যেসব উপকার মেলে
নিয়মিত সিঁড়ি ব্যবহার করলে কেবল ক্যালোরি পোড়ে না, এর আরও অনেক উপকারিতা রয়েছে।
- হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে
- পায়ের পেশি শক্তিশালী করে
- ভারসাম্য ও সহনশীলতা উন্নত করে
- দৈনন্দিন শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায়
- সময় কম লাগায়, তাই ব্যস্ত মানুষের জন্যও সহজ একটি ব্যায়াম
- নামার সময়ও ক্যালোরি খরচ হয়
অনেকেই ভাবেন শুধু ওপরে উঠলেই উপকার। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময়ও সমতল পথে হাঁটার তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি ক্যালোরি খরচ হতে পারে। কারণ তখন পেশিগুলো শরীরের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে বাড়তি কাজ করে।
কীভাবে শুরু করবেন
যারা নতুন, তারা প্রথম দিন থেকেই অনেকগুলো তলা ওঠার চেষ্টা করবেন না। ধীরে ধীরে অভ্যাস তৈরি করুন।
- প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ মিনিট সিঁড়ি ব্যবহার করুন
- শুরুতে এক বা দুই তলা উঠুন
- প্রয়োজন হলে মাঝপথে বিশ্রাম নিন
- আরামদায়ক জুতা পরুন
- ভারসাম্যের জন্য প্রয়োজনে হাতল ব্যবহার করুন
- হাঁপানি, হাঁটুর সমস্যা বা হৃদ্রোগ থাকলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
শুধু সিঁড়ি উঠলেই কি ওজন কমবে?
না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওজন কমানোর জন্য শুধু একটি ব্যায়ামের ওপর নির্ভর করলে হবে না। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যালোরি ঘাটতি তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটা, সাইকেল চালানো, শক্তিবর্ধক ব্যায়াম এবং সিঁড়ি ব্যবহার একসঙ্গে করলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।
জিমে যাওয়ার সময় বা সুযোগ সবার থাকে না। কিন্তু সিঁড়ি প্রায় সব জায়গাতেই রয়েছে। তাই প্রতিদিনের ছোট্ট একটি অভ্যাস বদল আপনার শরীরকে আরও সক্রিয় রাখতে পারে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করতে পারে। অবশ্যই মনে রাখতে হবে, সুস্থভাবে ওজন কমানোর জন্য সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম একসঙ্গে বজায় রাখাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস





