আজ বিশ্ব চকলেট দিবস

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
আজ বিশ্ব চকলেট দিবস
ছবি : সংগৃহীত

চকলেট খেতে ভালোবাসেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। ছোট-বড় প্রায় সবার কাছেই এটি একটি প্রিয় খাবার। জন্মদিন, উৎসব, উপহার কিংবা বিশেষ মুহূর্ত উদযাপনে চকলেটের ব্যবহার এখন খুবই সাধারণ। এই জনপ্রিয় খাবারটিকেই উদযাপন করতে প্রতি বছর ৭ জুলাই পালন করা হয় বিশ্ব চকলেট দিবস।

অনেকেই ভাবেন, এই দিবসটি কেন পালন করা হয় এবং এর ইতিহাস কী। চলুন জেনে নেওয়া যাক।

প্রতি বছর ৭ জুলাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশ্ব চকলেট দিবস পালন করা হয়। ধারণা করা হয়, ১৫৫০ সালের দিকে এই দিনেই প্রথম ইউরোপে চকলেটের প্রচলন শুরু হয়েছিল। সেই স্মৃতিকে ঘিরেই ৭ জুলাইকে বিশ্ব চকলেট দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়।

তবে ইতিহাসবিদদের একটি অংশ মনে করেন, এই তারিখের সঙ্গে চকলেটের ইউরোপে প্রবেশের সম্পর্ক পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তারপরও বহু বছর ধরে ৭ জুলাই বিশ্ব চকলেট দিবস হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

চকলেটের ইতিহাস

চকলেটের ইতিহাস কয়েক হাজার বছরের পুরোনো। এর শুরু মধ্য আমেরিকায়। মায়া ও অ্যাজটেক সভ্যতার মানুষ কোকো গাছের বীজ থেকে এক ধরনের পানীয় তৈরি করত। সেই পানীয় ছিল তেতো এবং মসলাযুক্ত।

পরে ইউরোপে কোকো পৌঁছানোর পর এতে চিনি, দুধ ও অন্যান্য উপাদান যোগ করা হয়। ধীরে ধীরে এটি আজকের পরিচিত মিষ্টি চকলেটের রূপ নেয়। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই নানা ধরনের চকলেট তৈরি ও খাওয়া হয়।

চকলেট কীভাবে তৈরি হয়?

চকলেট তৈরি হয় কোকো গাছের ফলের ভেতরের বীজ থেকে। এই বীজ সংগ্রহ করার পর তা গাঁজন, শুকানো, ভাজা এবং পেষাই করা হয়। এরপর কোকো মাস, কোকো বাটার, চিনি এবং অনেক ক্ষেত্রে দুধ মিশিয়ে বিভিন্ন ধরনের চকলেট তৈরি করা হয়।

চকলেটের কিছু উপকারিতা

পরিমিত পরিমাণে, বিশেষ করে ডার্ক চকলেট খেলে কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যেতে পারে।

  • এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
  • কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ডার্ক চকলেট হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।
  • এটি সাময়িকভাবে মন ভালো করতে সাহায্য করতে পারে। কারণ চকলেট খেলে মস্তিষ্কে ভালো লাগার অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু রাসায়নিক পদার্থের কার্যক্রম বাড়তে পারে।
  • ডার্ক চকলেটে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হতে পারে।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত


অতিরিক্ত চকলেট খেলে কী হতে পারে?

চকলেট সুস্বাদু হলেও অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। অনেক চকলেটে চিনি, চর্বি ও ক্যালোরির পরিমাণ বেশি থাকে।

অতিরিক্ত চকলেট খেলে ওজন বৃদ্ধি, দাঁতের ক্ষয়, রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া ও অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের কারণে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি হতে পারে

তাই চকলেট খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমিতি বজায় রাখাই সবচেয়ে ভালো।

বিশ্বজুড়ে কীভাবে পালিত হয় দিবসটি?

বিশ্ব চকলেট দিবসে অনেক দেশে বিশেষ ছাড়ে চকলেট বিক্রি করা হয়। বিভিন্ন বেকারি ও চকলেট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নতুন নতুন স্বাদের চকলেট বাজারে আনে। অনেক জায়গায় চকলেট তৈরির কর্মশালা, প্রতিযোগিতা এবং স্বাদ গ্রহণের আয়োজনও করা হয়।

অনেকে আবার এই দিনে প্রিয় মানুষকে চকলেট উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

চকলেট শুধু একটি মিষ্টি খাবার নয়, এটি আনন্দ, উদযাপন এবং ভালোবাসারও প্রতীক। তবে এর স্বাদ উপভোগ করার পাশাপাশি পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। বিশ্ব চকলেট দিবস হতে পারে প্রিয়জনের সঙ্গে মিষ্টি কিছু মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার একটি সুন্দর উপলক্ষ্য।