Advertisement

১১ দিনেও উদ্ধার হয়নি বনানীতে চুরি হওয়া কোটি টাকার ডায়মন্ড

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
১১ দিনেও উদ্ধার হয়নি বনানীতে চুরি হওয়া কোটি টাকার ডায়মন্ড
ডায়মন্ডের অলংকার। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রাজধানীর বনানীর ১১ নম্বর রোডের অভিজাত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ‘এনজে ডায়মন্ডস’ থেকে চুরি হওয়া ১০ কোটি ২৬ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা মূল্যের আসল ডায়মন্ড এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত কর্মচারীদের মাধ্যমে সুপরিকল্পিতভাবে এই অভিনব চুরির ঘটনা ঘটলেও চুরি হওয়া আসল ডায়মন্ডের হদিস না মেলায় মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।

বনানী থানার মামলার অভিযোগ ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের দুই নারী কর্মচারী মুনমুন আচার্য্য (প্রিয়া) এবং মোসাম্মৎ রিফা তামান্না যোগসাজশ করে দোকান থেকে আসল হীরা সরিয়ে আসছিলেন। তারা আসল হীরার পরিবর্তে ভারত থেকে অবৈধ পথে আনা উচ্চমানের নকল গয়না সেখানে হুবহু প্রতিস্থাপন করতেন। এই কাজ করতে আসামিরা ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ৮ জুলাই পর্যন্ত সময় নেন। এই নকল গয়নাগুলো দেখতে এতটাই নিখুঁত ছিল যে স্বাভাবিক পর্যবেক্ষণে জালিয়াতি ধরা পড়েনি।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং দোকানের স্টক চেক করার পর গত ৯ জুলাই চুরির বিষয়টি সামনে আসে। দোকানের মালিকের পক্ষে মো. খায়েজ আহম্মেদ সেদিনই মামলা করলে বনানী থানা পুলিশ অভিযুক্ত দুই নারীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়। তবে তাদের কাছ থেকে শুধু বিপুল পরিমাণ নকল অলঙ্কারই জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।

উদ্ধারকৃত মালামালের তালিকায় রয়েছে নকল ডায়মন্ড সদৃশ চেইন, গোল্ড প্লেটেড চুড়ি, সাদা ও রঙিন পাথরের আংটি এবং হীরা ও রুবি খচিত বলে মনে হওয়া ইমিটেশনের কানের দুল। পুলিশ ও তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, চুরি হওয়া আসল হীরাগুলো আসামিরা ইতোমধ্যে পাচার করে দিয়েছেন। অভিযুক্ত প্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে এই দোকানে কর্মরত ছিলেন এবং মালিকপক্ষের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই তিনি এই কোটি টাকার আত্মসাৎ ও জালিয়াতি করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে প্রধান দুই আসামিকে পুলিশ ধরতে পারলেও যাদের সঙ্গে যোগসাজশে এই কাজ করা হয়েছে, তাদের ধরতে পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী মো. খায়েজ আহম্মেদ। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমাদের শোরুমে একটি বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। এটা নিয়ে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত চলমান রয়েছে। কিন্তু এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের যে ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, আমরা তা পাচ্ছি না। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে আমরা পুলিশকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছি। আমরা আশা করছি, যথাযথ তদন্তপূর্বক এই ঘটনায় জড়িত এবং এর পেছনে থাকা মূল অভিযুক্তদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খুঁজে বের করবে।’

বনানী থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘মামলাটির তদন্ত চলমান আছে। আমরা এখনো চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করতে পারিনি। তবে আশা করি খুব দ্রুতই তদন্তে সব বেরিয়ে আসবে।’